সিম্ফনির ১৪ কোটি গ্রাহক পূর্ণ, উদ্যাপন অনুষ্ঠিত
জনপ্রিয় মুঠোফোন ব্র্যান্ড সিম্ফনির গ্রাহকসংখ্যা ১৪ কোটিতে পৌঁছেছে। এ উপলক্ষে রাজধানীর হলিডে ইনে একটি উদ্যাপন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়, যেখানে ব্র্যান্ডটির দীর্ঘ যাত্রার নানা স্মৃতি ও সাফল্য তুলে ধরা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জনপ্রিয় দেশীয় মুঠোফোন ব্র্যান্ড সিম্ফনির গ্রাহকসংখ্যা ১৪ কোটিতে পৌঁছেছে। এই মাইলফলক অর্জনের আনন্দ উদ্যাপন করতে রাজধানী ঢাকার হলিডে ইন হোটেলে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্র্যান্ডটির দীর্ঘ পথচলা এবং দেশের বাজারে এর অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। ২০০৮ সালে সিম্ফনি ব্র্যান্ড তার বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করেছিল। এরপর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ তারা ১৪ কোটি গ্রাহকের বিশাল এক পরিবারে পরিণত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিম্ফনির এই ১৪ কোটি গ্রাহক পূর্ণ হওয়ার পেছনে নানা স্মৃতি ও ইতিহাস তুলে ধরা হয়। ২০০৮ সালে ব্র্যান্ডটির যখন যাত্রা শুরু হয়েছিল, তখন তাদের প্রধান ও প্রথম উদ্দেশ্যই ছিল বাংলাদেশের আনাচকানাচে মোবাইল সেবা পৌঁছে দেওয়া। আয়োজনে জানানো হয়, এই ১৪ কোটি ক্রেতার মাধ্যমে তারা সেই লক্ষ্য সফলভাবে অর্জন করতে পেরেছেন। অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয় যে, সিম্ফনি ব্র্যান্ডটি ২০১২ সালে বাজারে কম দামের অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন নিয়ে এসেছিল, যা প্রযুক্তির নাগাল সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল।
এই বিশেষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও বক্তারা সিম্ফনিকে নিয়ে তাঁদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা শেয়ার করেন। জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব তাঁর অতীতের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, ২০০৯ সালের জুন-জুলাই মাসের দিকে তিনি সিম্ফনি মোবাইল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই ফোন কেনার জন্য তিনি তখন টিউশনি করে টাকা জমিয়েছিলেন। তৌসিফ মাহবুব স্মৃতিচারণা করে আরও বলেন, তিনি ৭ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে সিম্ফনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ টেন ফোনটি কিনেছিলেন এবং সেই অনুভূতি তাঁর জীবনের জন্য অত্যন্ত বিশেষ ছিল।
অনুষ্ঠানে এডিসন গ্রুপ ও সিম্ফনির সঙ্গে জড়িত শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। ১৯৯৯ সাল থেকে এই মুঠোফোন শিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে জাকারিয়া শাহিদ জানান, সেই সময়ে বাজারে মূলত বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর আধিপত্য ছিল। কিন্তু তাঁরা তখন উপলব্ধি করেছিলেন যে, ওই ব্র্যান্ডগুলো ক্রেতাদের প্রকৃত চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করতে পারছে না। বিশেষ করে ব্যাটারি লাইফ, সাউন্ড এবং স্পিকারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের নানা ধরনের প্রত্যাশা ও চাহিদা ছিল। গ্রাহকদের সেই প্রত্যাশা পূরণের চিন্তা থেকেই মূলত সিম্ফনির যাত্রা শুরু হয়েছিল।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও মুঠোফোনের দাম নিয়ে জাকারিয়া শাহিদ বলেন, মেমোরি, চিপসেট এবং বিভিন্ন কম্পোনেন্ট বা উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিক বাজারে মুঠোফোনের দাম ক্রমেই বাড়ছে। তবে তাঁরা ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে এই বাড়তি দামের বোঝা কোনোভাবেই সাধারণ ক্রেতাদের ওপর না পড়ে। সিম্ফনিকে একটি গর্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই বাংলাদেশি ব্র্যান্ড আমাদের গর্ব এবং এর মাধ্যমে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। তাঁদের এই অগ্রযাত্রা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সিম্ফনির ১৪ কোটি গ্রাহকের এই বিশাল মাইলফলকের সার্বিক দিক তুলে ধরেন মোহাম্মদ আবু সায়েম। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সিম্ফনি বাংলাদেশে কেবল একটি মুঠোফোন ব্র্যান্ড নয়, এটি আজ একটি আবেগের নামে পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ১৪ কোটি গ্রাহক অর্জনের যাত্রায় সিম্ফনির ১৪ কোটিতম গ্রাহক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ময়মনসিংহের মাফিজা খাতুন। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ডটির অতীতের সাফল্য এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনাগুলো উপস্থিত সবার সামনে তুলে ধরা হয়।








