সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ছাড়তে চায় সরকার
দুর্বল পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের রাষ্ট্রীয় মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার ঢাকার অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কাতারসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের বিনিয়োগকারীদের খোঁজা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

গতকাল সোমবার ঢাকার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে দেশের আর্থিক খাতের একটি বড় সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানানো হয়। দুর্বল শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের রাষ্ট্রীয় মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই ব্যাংকটির মালিকানায় যুক্ত হতে বিদেশি এবং বিশেষ করে কাতারসহ অন্যান্য মুসলিম দেশের বিনিয়োগকারীদের খুঁজছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচটি দুর্বল শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ব্যাংকটি গঠনের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের ৯ নভেম্বর সম্মতিপত্র এবং একই বছরের ৩০ নভেম্বর চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয়।
নতুন এই ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন রয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন হলো ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার সরাসরি দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে মূলধনে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ব্যাংকটির মালিকানা হস্তান্তর ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে বলেছেন, সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ছেড়ে দিতে চায়। এজন্য কাতারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনা সফল হলে কাতার ব্যাংকটির মালিকানায় যুক্ত হতে পারবে। ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ ও কর্মীদের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, যারা ব্যাংকের দায়িত্ব নেবেন, বিষয়টি তাদের ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে সরকার আগাম কীভাবে জানবে।
একীভূত হওয়া এই ব্যাংকগুলোর আর্থিক ও কাঠামোগত নানা তথ্যও উঠে এসেছে। ব্যাংকগুলোর মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ। বিশাল অংকের এই খেলাপি ঋণ নতুন ব্যাংকের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশাল কর্মীবাহিনী ও বিশাল অবকাঠামো নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটিতে বর্তমানে মোট কর্মী রয়েছে ১৮ হাজার ৮১ জন। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৫ হাজার ৯৯৬ জন, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ৪ হাজার ৩৯ জন, এক্সিম ব্যাংকে ৩ হাজার ৪৮৭ জন, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ২ হাজার ৪৮৬ জন এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে ২ হাজার ৭৩ জন কর্মী কর্মরত আছেন।
গ্রাহকসেবা ও নেটওয়ার্কের পরিধি বজায় রাখতে ব্যাংকটির দেশজুড়ে রয়েছে সুপরিসর অবকাঠামো। এই ব্যাংকের অধীনে বর্তমানে ৭৬১টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ চালু রয়েছে। কাতারসহ অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে এই বিশাল কাঠামোর ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ পরিচালিত হবে কি না, তা এখন মূলত কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক আলোচনার সফলতার ওপর নির্ভর করছে।








