সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতের লাভে কোনো হেয়ারকাট হবে না
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আমানতকারীদের লাভে কোনো হেয়ারকাট হবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি শ্রেণির আমানতকারীরা তাদের তহবিল তুলতে পারবেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ১০:১৭· ১ মিনিট পড়া

রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার (২৫ আগস্ট ২০২৫) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সাথে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার এই বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক পরিস্থিতি ও আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিকে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংবটির কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে আমানতকারীদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে, তাদের জমাকৃত অর্থের লাভে কোনো ধরনের 'হেয়ারকাট' বা কর্তন করা হবে না। এই নির্দেশনার ফলে গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর হবে এবং তাদের আস্থার পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির বিভিন্ন হিসাব থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ ও ব্যক্তি শ্রেণির আমানতকারীরা তাদের প্রয়োজনীয় তহবিল ব্যাংক থেকে নির্বিঘ্নে উত্তোলন করতে পারবেন। দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর এই টাকা তোলার সুযোগ পাওয়ায় গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা লাঘব হবে।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ব্যাংকটিকে যত দ্রুত সম্ভব তাদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে হবে। গ্রাহকসেবা স্বাভাবিক করার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেন ও অন্যান্য কার্যক্রম আগের মতো সচল হবে।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত ইসলামিক ব্যাংক হিসেবে ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। বিশাল এই মূলধন এবং সরকারি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকটি দেশের শরীআহভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির এই যৌথ উদ্যোগের ফলে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন বজায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতায় ব্যাংকটি দ্রুত তার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাবে এবং গ্রাহকদের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা রক্ষা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।








