শেখ হাসিনাসহ দণ্ডিতদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়ায় রুলস সংশোধনের উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ দণ্ডিতদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করতে রুলস অব প্রসিডিউরের বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাধারণ আইনে পদ্ধতি থাকলেও ট্রাইব্যুনালের প্রসিডিউরে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ নেই।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দণ্ডিতদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট ও কার্যকর করতে রুলস অব প্রসিডিউরের বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানী ঢাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপের কথা সামনে আসে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই আদেশ বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে কর্মরত মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, দেশের প্রচলিত আইন ও রুলস অব প্রসিডিউরে মূলত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ প্রদান, আর্থিক জরিমানা আরোপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা ভুক্তভোগী পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছেন, ঠিক কী প্রক্রিয়ায় বা কোন আইনি কাঠামোর আওতায় দণ্ডিতদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে, সেটির বিশদ বিবরণ সাধারণ আইনে বলা আছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব প্রসিডিউরের ভেতরে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে বা বিস্তারিতভাবে বলা নেই।
এই আইনি জটিলতা ও অস্পষ্টতা দূর করার পক্ষেই কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ট্রাইব্যুনালের বিধি বা রুলস অব প্রসিডিউর সংশোধনের মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও ফলপ্রসূ করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
ভবিষ্যতের আইনি কার্যক্রম ও রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই সংশোধনের গুরুত্ব অপরিসীম। এ প্রসঙ্গে মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে যে রায়গুলো আসবে, সেই রায়ের ভেতরে যদি এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকে এবং সেখানে দেশের প্রচলিত আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জন্য ওই নির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী রায় বাস্তবায়ন করা অনেক বেশি সহজ হবে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ায় দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়গুলো নিখুঁতভাবে কার্যকরের স্বার্থেই রুলস অব প্রসিডিউরের বিধি সংশোধনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি শূন্যতা বা ধোঁয়াশা থাকবে না।








