শক্ত পানির ক্ষতিকর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চুল
শক্ত পানিতে থাকা অতিরিক্ত খনিজ চুল ও মাথার ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে। আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনের গবেষণায় চুল ও মাথার ত্বকের ওপর শক্ত পানির এই নেতিবাচক প্রভাবের কথা উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চুলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত পানির গুণগত মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিন থেকে শক্ত পানির কারণে চুল ও মাথার ত্বকে যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য জানা গেছে। গবেষকদের মতে, প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহৃত পানির উপাদানের তারতম্য চুলের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনের বিশেষজ্ঞ ডেসমন্ড টবিন এই বিষয়ে চুল ও মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার নেপথ্যে থাকা কারণগুলো নিয়ে আলোকপাত করেছেন। শক্ত পানি বলতে মূলত সেই পানিকে বোঝানো হয়, যাতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজের পরিমাণ অনেক বেশি মাত্রায় থাকে। আমাদের দৈনন্দিন রুটিনে এই ধরনের পানি ব্যবহারের ফলে চুলের স্বাভাবিক কোমলতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
শক্ত পানিতে বারবার চুল ধুলে একটি বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। পানিতে থাকা অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম ধীরে ধীরে চুলের গায়ে জমতে শুরু করে। এভাবে দীর্ঘদিন জমতে জমতে এই খনিজগুলো চুলের ওপর একটি শক্ত আস্তরণ বা আবরণ তৈরি করে ফেলে, যা চুলের স্বাভাবিক পুষ্টি ও আর্দ্রতা শোষণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
চুলের গায়ে এই খনিজের আস্তরণ জমে যাওয়ার ফলে চুল নিস্তেজ ও বিবর্ণ হয়ে পড়ে। এর ফলে চুল তার স্বাভাবিক দীপ্তি হারাতে শুরু করে এবং চুল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও নানা ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হয়। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, চুলের এই ভঙ্গুর দশা এবং খনিজ জমে যাওয়ার সমস্যাটি অনেকেই সহজে অনুধাবন করতে পারেন না।
চুলের গায়ে জমে যাওয়া এই অবাঞ্ছিত খনিজের স্তর বা আস্তরণ দূর করার জন্য অনেকে বিভিন্ন ধরনের কড়া শ্যাম্পু ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ করে, এই জম-টেকে থাকা খনিজ পরিষ্কার করতে সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে। তবে এই ধরনের শ্যাম্পুর ব্যবহার চুলের সুরক্ষার চেয়ে উল্টো বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খনিজ দূর করার প্রক্রিয়ায় সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল ও মাথার ত্বকে অতিরিক্ত শুষ্কতা তৈরি হতে পারে। এই অতিরিক্ত শুষ্কতার কারণে মাথার ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে এবং চুল আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও রুক্ষ হয়ে ওঠে।








