রাবি চারুকলা অনুষদে তীব্র শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ৭৮টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২১ জন শিক্ষক। শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৬:১৬· ১ মিনিট পড়া

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে তীব্র শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে নানা সরঞ্জামের অভাব এবং সেশনজট। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন অনুষদের শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসায় ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পঠনপাঠন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদে অনুমোদিত শিক্ষক পদ রয়েছে ৭৮টি। এর বিপরীতে বর্তমানে শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২১ জন। অর্থাৎ দীর্ঘকাল ধরে অনুষদটিতে ৫টি শূন্য পদ খালি রয়েছে, যা শিক্ষক সংকটের চিত্রকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
শিক্ষক সংকটের বিষয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জানান, তাদের ৭৮টি শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ২১ জন। শিক্ষার্থীর অনুপাত বিবেচনায় প্রতিটি ডিসিপ্লিনে অন্তত ১৫ থেকে ১৮ জন শিক্ষক প্রয়োজন হলেও কোনো কোনো ডিসিপ্লিনে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন বা দুজন।
শিক্ষক সংকটের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে। এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আরও উল্লেখ করেন যে, সেশনজটের মূল কারণ হলো এই শিক্ষক সংকট। তাদের পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলে চারুকলায় সেশনজট থাকার কথা নয়।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে অধ্যাপক এ কে এম আরিফুল ইসলাম জানান, তাদের বিভাগে মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য—দুটি ডিসিপ্লিন থাকলেও শিক্ষক সংকট অত্যন্ত প্রকট। বিশেষ করে মৃৎশিল্প ডিসিপ্লিনে বর্তমানে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন, যিনি আগামী ডিসেম্বর মাসে অবসরে যাবেন।
শিক্ষক ও কাঠামোগত সংকটের কারণে শুধু পাঠদানই ব্যাহত হচ্ছে না, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশেও দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মুনিম শাহারিয়া জানান, তাদের চারটি সেমিস্টারের মধ্যে একটি সেমিস্টারের পরীক্ষাই এখনো তারা দিতে পারেননি। প্রায় দেড় বছর ধরে সেই পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছেন তারা। একই শিক্ষাবর্ষের অন্য অনেক বিভাগের শিক্ষার্থীরা যেখানে পড়াশোনা শেষের দিকে, সেখানে তাদের মাস্টার্স এখনো শেষ হয়নি।
শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি অনুষদটিতে রয়েছে বড় ধরনের সরঞ্জামের অভাব। পড়াশোনার আনুষঙ্গিক খরচ নিয়ে শিক্ষার্থী নিয়াজ মাহমুদ জানান, তাদের অধিকাংশ কোর্সই ব্যবহারিক। তাত্ত্বিক পড়াশোনার উপকরণ লাইব্রেরি বা ইন্টারনেট থেকে পাওয়া গেলেও ব্যবহারিক কাজের উপকরণ শিক্ষার্থীদেরই নিজেদের কিনতে হয়। একটি কোর্সেই অনেক সময় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এছাড়া অনুষদটিতে সব মিলিয়ে বর্তমানে মাত্র ৩টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।








