দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক সংকট চরমে
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তীব্র শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। ১৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৫টিতেই নেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ। এছাড়া অনুমোদিত পদের বিপরীতে খালি রয়েছে ২৯৯টি শিক্ষক পদ।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রাথমিক থেকে শুরু করে কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের মারাত্মক সংকট বিরাজ করছে। ১০ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন স্তরের ১৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৯৫টিতেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ নেই। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ফুলবাড়ীতে ৬৬ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। শুধু প্রধান শিক্ষক সংকটই নয়, এসব বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ও সহায়ক জনবলেরও চরম ঘাটতি রয়েছে। ১০৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮০টিতেই কোনো নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি নেই বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, স্কুল ও কলেজ, কলেজ, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি, দাখিল, ফাজিল ও কারিগরি মিলিয়ে ৭৩টি বা সমমানের ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩টিতেই প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দায়িত্ব চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। এর মধ্যে পাঁচটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটিতে, ৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৩টিতে, তিনটি স্কুল ও কলেজের একটিতে, পাঁচটি কলেজের দুটিতে, ৯টি দাখিল মাদ্রাসার দুটিতে এবং ৯টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের চারটিতে প্রধানের পদ শূন্য রয়েছে।
শিক্ষক সংকটের চিত্রটি আরও ব্যাপক। ফুলবাড়ী উপজেলায় অনুমোদিত এক হাজার ৩৬১টি শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন এক হাজার ৬২ জন। অর্থাৎ বিভিন্ন স্তরে শিক্ষক সংকট দূর করার মতো গুরুত্বপূর্ণ ২৯৯টি পদ এখনো শূন্য পড়ে রয়েছে। এর ফলে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জটিলতা নিয়ে সমকাল-কে কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা মাধ্যমিক ও শিক্ষা অফিসের তথ্য তুলে ধরে আবুল কালাম আজাদ জানান, এগুলো এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কমিটি না থাকায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য চাহিদা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এর জবাবে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির কাজ চলমান রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যোগাযোগ করলে আমরা তা অনুমোদন দিয়ে দিচ্ছি। চুপচাপ বসে থাকলে তো হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, ছয়-সাতটি টেবিল পার হতে হয়তো একটু দেরি হতে পারে, তবে কমিটি করার কাজ চলমান রয়েছে।
সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি এস কে মোহাম্মদ আলী দুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম জানান, সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলায় দীর্ঘদিন পদোন্নতি আটকে আছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহসিন আলী জানান, শূন্য পদের তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এ সংকট দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন। এছাড়া মো. সাইফুজ জামান আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী মাসের মধ্যে হয়তো শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে।
এদিকে শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক সংকট দ্রুত নিরসন না হলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে নাজিম উদ্দীন মণ্ডল বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক সংকট দ্রুত নিরসন না হলে এর প্রভাব পড়বে শিক্ষার মান, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পাঠদানে। তাই শূন্য পদ পূরণ, পদোন্নতির জটিলতা নিরসন এবং দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।








