রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে ডেঙ্গু ও এডিসের লার্ভা
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এবং এডিস মশার প্রজনন ঘনত্ব উভয়ই বাড়ছে। রামেক হাসপাতালে গত ১১ আগস্ট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এবং এডিস মশার প্রজনন ঘনত্ব দিন দিন বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই দুই জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মশার বংশবিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাজশাহী নগরীতে দুই মাসের ব্যবধানে এডিস মশার প্রজনন ঘনত্ব দ্বিগুণ হয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে রাজশাহী নগরীতে ৭৫টি বাড়ি পরিদর্শন করে ২৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৬৮টি পানি ধারণকারী পাত্র পরীক্ষা করে তার মধ্যে ৪৬টিতেই এডিসের লার্ভার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের এই চিত্রে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংগৃহীত মশার লার্ভার ওপর পরিচালিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সংগৃহীত ৬৮৫টি মশার লার্ভার মধ্যে ৫০৫টি ছিল এডিস অ্যালবোপিকটাস এবং ৮৬টি এডিস ইজিপ্টি প্রজাতির। মশার এই ব্যাপক উপস্থিতির কারণে রাজশাহীতে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গত ১৫ আগস্ট রামেক হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, গত ১১ আগস্ট হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে রোগীর চাপ কিছুটা বাড়ছে এবং ডেঙ্গু রোগীদের সুচিকিৎসা দিতে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ১ জানুয়ারি থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত এই হাসপাতালে সর্বমোট ৪৯২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বছরের শুরু থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত বহির্বিভাগে শনাক্ত হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৬ জনে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি ছিলেন ৫০ জন রোগী।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহবুব হাসান জানান, বৃষ্টির কারণে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের ডেঙ্গু কর্নার প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য উপকরণ পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোগের বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নানা পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার জানান, ডেঙ্গু পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও এর বিস্তার ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের এ বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
তবে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ডেঙ্গু মূলত এডিস মশাবাহিত একটি রোগ। শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পৌরসভার হলেও তাদের বর্তমান কার্যক্রম একেবারেই নগণ্য মানের। নাগরিকদের পাশাপাশি পৌরসভার জোরালো ভূমিকা জরুরি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগে নিয়মিত মশা মারার ফগার মেশিনের আওয়াজ শোনা গেলেও দীর্ঘদিন ধরে তা আর চোখে পড়ে না। তাই অনতিবিলম্বে ফগার মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধনের জোরালো দাবি জানান তিনি।








