রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কাউকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হবে না: শামা ওবায়েদ
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে আটকে না থাকে, তা বর্তমান সরকার নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য আসে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে বা আটক না থাকে, তা বর্তমান সরকার অবশ্যই নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার রাজধানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডব্লিউর প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশন বা বিচারপূর্ব আটক সংক্রান্ত একটি রিপোর্টের জবাবে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনার মধ্যে প্রতিমন্ত্রী এই বক্তব্য দেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, 'বিরোধী দল হোক, আওয়ামী লীগ হোক, কিংবা যে দলই হোক; রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে আটকে না থাকে, তা বর্তমান সরকার নিশ্চিত করবে।' তিনি আরও যোগ করেন যে সরকারের অবস্থান হলো তারা মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ আছে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যেন কারো ওপর অবিচার না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।
গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শামা ওবায়েদ জানান, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে যে ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন আগে কখনো হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি এবং দলটির নেতাকর্মীরা। এই দীর্ঘ বঞ্চনা ও নিপীড়নের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'সুতরাং আমরা কখনোই চাইবো না, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে আমাদের গত ফ্যাসিস্ট আমল ফিরে আসুক। আমরা চাই, সবার ন্যূনতম মানবাধিকার নিশ্চিত করা হোক এবং প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষা করা হোক।'
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিচারপূর্ব দীর্ঘ আটকাবস্থা অবসানের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটেই মূলত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হলো। বিগত সময়ে রাজনৈতিক কারণে আটক ও আইনি প্রক্রিয়ার নানা দিক নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলা প্রসঙ্গেও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে উল্লেখ করেন যে, জুলাই-আগস্টে যে ঘটনা ঘটেছে এবং যে অভ্যুত্থান হয়েছে, তারপর অনেক মামলা হয়েছে। শামা ওবায়েদের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব মামলা আইনগতভাবে হওয়ার কথা ছিল, সেভাবেই মামলাগুলো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এসব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং যারা গুম-খুনের নির্দেশ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।' এর আগে আইন মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে যে জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলো তারা পর্যালোচনা করবে, যাতে এসব মামলার পেছনে কোনো ভিত্তি বা সত্যতা রয়েছে কি না তা যাচাই করা যায়।
সব মিলিয়ে বর্তমান সরকার মানবাধিকার সুরক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসামুক্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো নাগরিককে রাজনৈতিক কারণে হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেই বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলে তার বক্তব্যে উঠে আসে।








