রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু হ্রদের পানিতে তলিয়ে গেছে, পারাপার বন্ধ
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটির বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতু পানিতে তলিয়ে গেছে। ঝুঁকি এড়াতে শুক্রবার বিকেলে সেতুর পারাপার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু পানিতে ডুবে গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হ্রদের পানি বৃদ্ধির ফলে সেতুটির পাটাতনের ওপর পানি উঠতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়।
১৯৮৬ সালে নির্মিত ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ এই ঝুলন্ত সেতুটি দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক ভিড় করেন। কিন্তু হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার বিকেলে সেতুর পাটাতনে প্রায় চার থেকে পাঁচ ইঞ্চি পানি উঠে যায়। এর ফলে সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তা ও পর্যটকদের ঝুঁকি এড়াতে এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএলে পৌঁছায়। পানির এই উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে পর্যটন কর্পোরেশনের অধীনস্থ এই ঐতিহাসিক সেতুটি চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে।
এই বিষয়ে রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের আলোক বিকাশ চাকমা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়তে থাকায় শুক্রবার বিকেলে ঝুলন্ত সেতুর ওপর প্রায় চার ইঞ্চি পানি ওঠে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ঝুঁকি এড়াতে সেতু দিয়ে পারাপার বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, হ্রদে পানি বাড়ার কারণে শুক্রবার বিকেলে ঝুলন্ত সেতুতে চার ইঞ্চি পানি ওঠে। ঝুঁকি এড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেতু দিয়ে পারাপার বন্ধ করা হয়েছে। পানি কমে গেলে আবারও দর্শনার্থীদের জন্য সেতু খুলে দেওয়া হবে।
এদিকে হ্রদের পানি বৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে কাপ্তাই বাঁধেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হ্রদের পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাপ্তাই হ্রদের পানির বর্তমান উচ্চতা এবং বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। পানি কমে গেলে এবং পরিবেশ অনুকূলে এলে আবারও পর্যটকদের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হবে। ততদিন পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ঝুলন্ত সেতু এলাকায় না যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।








