রংপুরে প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে ‘স্তব্ধ রংপুর’ পালিত
রংপুরে প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে ‘স্তব্ধ রংপুর’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরামের এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তারা অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার খুলে পোস্টপেইড মিটার পুনঃস্থাপনের দাবি জানান। পাশাপাশি আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নেসকোর রংপুর কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রংপুরে বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে ‘স্তব্ধ রংপুর’ কর্মসূচি সফলভাবে পালিত হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া প্রিপেইড মিটার বাতিল করা এবং এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রিপেইড মিটার স্থাপন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে আজকের এই কর্মসূচিতে।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তারা নেসকোর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন আজকের কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে বলেন, আজকের কর্মসূচির মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, জনগণ প্রিপেইড মিটার চায় না। নেসকোর উচিত অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার খুলে পোস্টপেইড মিটার পুনঃস্থাপন করা। তার এই বক্তব্যে সাধারণ গ্রাহকদের মনের কথাই প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করেন উপস্থিত আন্দোলনকারীরা।
আরেক বক্তা আহসানুল আরেফিন তিতু নেসকোর কার্যক্রমকে প্রতারণামূলক বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে নেসকো প্রতারণামূলকভাবে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করেছে। গ্রাহকদের কোনো ধরনের তোয়াক্কা না করে এই মিটার বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আনোয়ার হোসেন বাবলু প্রিপেইড মিটারে অর্থ কাটার নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করার সঙ্গে সঙ্গে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও সার্ভিস চার্জ বাবদ কেটে নেওয়া হয়। এটি অন্যায়। তাই অবিলম্বে এসব প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবি জানান তিনি। গ্রাহকদের পকেট থেকে এ ধরনের অযৌক্তিক অর্থ কেটে নেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান বক্তারা।
উক্ত কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, আহসানুল আরেফিন তিতু, মির্জা বাবর বাবুল, আবু ছালেক, মনিরুজ্জামান সোহেল, শাহিদুল ইসলাম সুমন, কেয়া বেগম, ময়না আক্তার, হাসিবুর রহমান, সোলায়মান আলী, আনোয়ার হোসেন বাবলু, মমিনুল ইসলাম এবং সাজেদুল ইসলাম সাজু। এছাড়া বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরাম, নেসকো, বাসদ এবং সিপিবি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের এই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নেসকোর রংপুর কার্যালয় ঘেরাও করার চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন আরও কঠোরভাবে চালিয়ে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ। সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আজকের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।








