রংপুরে চার খুন: আসামিদের ডোপ টেস্টের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্টে মাদক না পাওয়ার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে রংপুরে ঘটে যাওয়া আলোচিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্টে মাদক না পাওয়ার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি সমগ্র দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া পরিবারটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে রংপুর অঞ্চলের পরিচিত মুখ ছিলেন এবং তাঁদের এভাবে প্রাণ হারাতে হওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণ গভীরভাবে শোকাহত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
ঘটনাটি ঘটে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায়। সেখানে অত্যন্ত নৃশংসভাবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। একটি পরিবারকে এভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ঘটনাটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করে। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার তাগিদ বহুগুণ বেড়ে যায়।
নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ জানায় যে ২২ আগস্ট রাতে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধারের পর পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য রংপুর মহানগর পুলিশ নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহানে দ্রুত অভিযান চালানো হয় এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৩ আগস্ট ভোরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পথে একটি বড় অগ্রগতি সাধিত হয় এবং পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মামলার বিভিন্ন দিক উন্মোচিত হতে শুরু করে।
গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আসামিদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। এর অংশ হিসেবে ৩০ আগস্ট তাঁদের মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এই নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশ্য ছিল আসামিরা কোনো ধরনের মাদকের প্রভাবে ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করা। পরবর্তীতে এই পরীক্ষার ফলাফল এবং এসংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বিভিন্ন মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
এই পুরো ঘটনার পেছনের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে প্রথম আলো পত্রিকায় বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে রংপুর মহানগর পুলিশ, রংপুর মেডিকেল কলেজ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বেলজিয়ামের গেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট গবেষক অ্যালাইন ভার্সট্রেটের নাম ও ভূমিকা উঠে আসে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও ডোপ টেস্টের ফলাফল পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাবিজ্ঞান ও অপরাধবিজ্ঞানের নানা দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।








