যৌন সম্পর্কে গলায় চাপ দেওয়ার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি
শারীরিক সম্পর্কের সময় গলায় চাপ দেওয়া বা 'চোকিং' অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। এর ফলে অজ্ঞান হওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

শারীরিক সম্পর্কের সময় গলায় চাপ দেওয়া বা 'চোকিং' নিরাপদ নয় বলে সতর্ক করেছেন গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞ মতামতে উঠে এসেছে যে, এই ধরনের আচরণের ফলে অজ্ঞান হওয়া, মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি, স্ট্রোক এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক গবেষণায় এই ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ল স্কুলের অধ্যাপক হিদার ডগলাসের নেতৃত্বে ২০২৪ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপ চালানো হয়। এই গবেষণায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৪ হাজার ৭০২ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই আধুনিক সম্পর্কের একটি ঝুঁকিপূর্ণ দিক সামনে চলে এসেছে।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের একটি বিশাল অংশ এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫৯ শতাংশ বা ৫৬ শতাংশ নয়, জরিপে অংশ নেওয়া ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন যে তারা জীবনে কখনো যৌন সম্পর্কের সময় গলায় চাপ দেওয়ার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।
শুধু গ্রহণ করার দিকটিই নয়, এর বিপরীতে অনেকেই এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৫১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে তারা নিজেরা তাদের সঙ্গীর গলায় চাপ দিয়েছেন। এ ছাড়া ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী উভয় ধরনের অভিজ্ঞতার কথাই স্বীকার করেছেন।
গবেষকরা মনে করছেন, পর্নোগ্রাফি ও অন্যান্য মাধ্যম থেকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ধরনের আচরণ ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু এর পেছনের ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই। অনেকেই এই বিপজ্জনক আচরণকে স্বাভাবিক বলে ধরে নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে মেলবোর্ন ল স্কুলের অধ্যাপক হিদার ডগলাস একটি সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, 'অনেক তরুণ-তরুণী এই আচরণকে নিরাপদ এবং যৌন সম্পর্ককে আরও উপভোগ্য করে বলে মনে করেন। কিন্তু তারা এর প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট জানেন না।'
অধ্যাপক হিদার ডগলাসের পাশাপাশি এই গবেষণার সঙ্গে ডেবি হারবেনিক এবং জ্যাকি ম্যাকমিলানের মতো সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠান যেমন ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি এবং উইমেনস হেলথ নিউ সাউথ ওয়েলস যুক্ত রয়েছে। ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে, এই বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।








