যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের সম্পদের নথিপত্র দুদকে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের কিছু সম্পদের নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে তার ও পরিবারের নামে এ পর্যন্ত ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সম্পদের কিছু নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। তবে এই হস্তান্তরের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা সময় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে ঢাকার আদালত যুক্তরাষ্ট্রে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ৪১টি ফ্ল্যাট বা বাড়ি জব্দের আদেশ দেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক এই মন্ত্রীর মোট ৪১টি ফ্ল্যাট বা প্লটের খোঁজ মিলেছে। মার্কিন মুল্লুকে থাকা এসব সম্পত্তির মোট মূল্য ৫৬০ কোটি টাকা।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা যায়, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে এ পর্যন্ত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে মোট ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় তাদের বিরুদ্ধে বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাজ্য, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। ৯টি দেশে তার ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলেও বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদের প্রমাণ মিলেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা এসব সম্পত্তির একটি বড় অংশ রয়েছে যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ফ্ল্যাটসহ মোট ৮০৬টি স্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ৮০৪টি ফ্ল্যাট বা বাড়ির মূল্য ৮ হাজার ৫১০ কোটি টাকা।
৯টি দেশে সার্বق এই মন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে মোট ১ হাজার ১২২টি ফ্ল্যাট, আবাসিক বাড়ি, প্লট ও একাধিক আবাসন কোম্পানি রয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে কম্বোডিয়ায় ১১৬টি প্লট বা বাড়ির খোঁজ মিলেছে, যার মধ্যে ১১১টি ফ্ল্যাট ও প্লটের মূল্য ৩৮০ কোটি টাকা।
দুবাইতে ৭৩টি ফ্ল্যাট বা বাড়ির খোঁজ মিলেছে এবং সেগুলোর মূল্য ৭৬১ কোটি টাকা। মালয়েশিয়ায় ৪৭টি প্লট বা বাড়ির খোঁজ পাওয়া গেছে, যার মূল্য ৩১৩ কোটি টাকা। থাইল্যান্ডে ২৪টি ফ্ল্যাটের খোঁজ মিলেছে এবং এর মূল্য ১৯০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া ভিয়েতনামে ৪টি ফ্ল্যাট বা বাড়ির খোঁজ মিলেছে, যেগুলোর মূল্য ১৫৯ কোটি টাকা। ভারতে ১১টি ফ্ল্যাটের খোঁজ মিলেছে যার মূল্য ১৩ কোটি টাকা এবং ফিলিপাইনে ২টি ফ্ল্যাট বা বাড়ির খোঁজ পাওয়া গেছে। মো. মশিউর রহমান এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের কার্যক্রমের সাথে এই নথিপত্র হস্তান্তরের বিষয়টি জড়িত রয়েছে।








