এস এম আমজাদ হোসেনের সম্পদের হিসাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত দুদকের
সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেনের সম্পদের হিসাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৫৬ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ঢাকা, বাংলাদেশ — ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কমিশন এই ব্যাংکটির সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে তার সম্পদের হিসাব চাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আকতারুল ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট এই অনুসন্ধানে এস এম আমজাদ হোসেনের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদকের অনুসন্ধানে এস এম আমজাদ হোসেনের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। তার নামে ৩০ কোটি ৯৪ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ১ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৮৯৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৫৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫৩ টাকায়।
তদন্তে তার পারিবারিক ও অন্যান্য খাতের ব্যয়ের হিসাবও খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এস এম আমজাদ হোসেনের পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার ৯৪৪ টাকা। এই ব্যয়সহ তার মোট অর্জনের পরিমাণ ৪৬ কোটি ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৯৭ টাকা।
অন্যদিকে, তার বিপরীতে ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ৭৪১ টাকার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এই আয় এবং অর্জনের হিসাব মেলানোর পরই তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এস এম আমজাদ হোসেনের নামে ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৫৬ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। বৈধ আয়ের উৎসের সাথে এই অতিরিক্ত অর্থের কোনো সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়নি, যা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও তার অবৈধ সম্পদ ও বিনিয়োগের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে এস এম আমজাদ হোসেনের মালিকানাধীন একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের তথ্য পেয়েছে কমিশন। এই দেশগুলোতে কীভাবে অর্থ পাঠানো হয়েছে এবং এর উৎস কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত এসব তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমানে এস এম আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। দুদক এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে এবং তার কাছে সম্পদের হিসাব চাওয়া সংক্রান্ত পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া কার্যকর করা হচ্ছে।








