যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ও আইসিবিএম বিতর্ক
চলতি বছর ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য সামনে এসেছে। তবে ইরান তাদের এই ধরনের আইসিবিএম কর্মসূচির কথা বরাবরই অস্বীকার করেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

চলতি বছর ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হয় এবং এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এই সামরিক উত্তেজনা এবং ভূরাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তেহরান, ওয়াশিংটন ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল। সংঘাতের এই আবহে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার এবং তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে নানা বিতর্ক ও আলোচনা চলছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নানা তথ্য উঠে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ পরমাণু রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের ৩২ শতাংশ হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়, যা এই সংঘাতের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও প্রযুক্তিগত সংজ্ঞা নিয়ে ডিফেন্স এক্সপ্রেস ও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লা বা দূরত্ব অতিক্রম করতে পারলে তা আইসিবিএম বা আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (ডিআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সবচেয়ে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হলো খোররামশাহ, যার পরীক্ষিত পাল্লা ৪,০০০ কিলোমিটার। অন্যদিকে, ইরানের মাঝারি-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১,০০০ থেকে ৩,০০০ কিলোমিটার বা ৬২১ থেকে ১,৮৬৪ মাইল পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বলেন, "তারা এরই মধ্যে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যেগুলো ইউরোপ এবং বিদেশে আমাদের ঘাঁটিগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। আর তারা এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ যেগুলো শিগগির যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারবে।"
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই বিষয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বেন শাপিরোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "ইরান যে কোনো আমেরিকান শহরকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। মানুষ এটি বিশ্বাস করে না। ইরান ৮,০০০ কিলোমিটার পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে; এর সঙ্গে আরও ৩,০০০ কিলোমিটার যোগ করতে পারলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে পারবে।"
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ করা হলেও, ইরান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশটির বিভিন্ন কর্মকর্তা এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ইরান আইসিবিএম কর্মসূচির কথা বরাবরই অস্বীকার করেছে এবং তেহরান এই ধরনের কোনো অস্ত্র তৈরি করছে না।








