যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করছে চীনের হাইপারসনিক অস্ত্র
২০২৫ সালে এসে চীনের অস্ত্র উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ ত্বরান্বিত হয়েছে। দেশটির নতুন হাইপারসনিক গ্লাইড প্রযুক্তি ও বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্যের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৫ সালে বৈশ্বিক সামরিক শক্তিসমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত প্রতিযোগিতায় বেইজিং তাদের সামরিক অস্ত্রাগার ও প্রযুক্তি ব্যাপক মাত্রায় প্রসারিত করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ1দিনের সামরিক আধিপত্য তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
চীন সম্প্রতি এমন একধরনের অত্যাধুনিক হাইপারসনিক গ্লাইড প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা সামরিক ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে আকাশে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ—যেমন উড়ন্ত কমান্ড পোস্ট, ট্যাঙ্কার বিমান এবং আওয়াকস যুদ্ধবিমানের ওপর সরাসরি আকাশ থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব।
চীনের এই অগ্রগতির পেছনে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ভূমিকা রয়েছে। ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মূলত দেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে এসে চীনের অস্ত্র উৎপাদন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ত্বরান্বিত হয়েছে।
চীন তাদের তৈরি ডিএফ-১৭ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতার পরিধিও বাড়িয়ে চলেছে। প্রায় ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে, প্রশান্ত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুয়াম মার্কিন সামরিক ঘাঁটিটি এই ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যেই রয়েছে।
শুধু ডিএফ-১৭ নয়, চীন আরও দূরপাল্লার অস্ত্রের উন্নয়ন ঘটিয়েছে। দেশটির নতুন ডিএফ-২৭ ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য পাল্লা প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই সুদূরপ্রসারী ক্ষমতার কারণে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরের অনেক দূরে অবস্থিত হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জেও সহজে পৌঁছাতে সক্ষম।
পেন্টাগন এবং চায়না অ্যারোস্পেস স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে চীনের সামরিক বহরে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র জমা হয়েছে। দেশটির হাতে বর্তমানে অন্তত ৩ হাজার ১৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩০০টি ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।








