যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনে পিিজার দোকানে গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে একটি পিজা দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে মো. রাজু নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে পরিবারে রোববার মৃত্যুর খবর পৌঁছায়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এলাকার একটি পিজা দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে মো. রাজু নামের এক বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় রাজুর পাশাপাশি আরও এক বাংলাদেশি ব্যক্তিও গুলিবিদ্ধ হন। পরে মো. রাজুকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহত মো. রাজুর বয়স হয়েছিল ৩৮ বছর। তাঁর বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কাঞ্চননগর গ্রামে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁরা গত রোববার রাজুর মৃত্যুর সংবাদ পান। এরপর সোমবার নোয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম ও শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নিহত রাজুর পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পটভূমি সম্পর্কে জানা যায় যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে দীর্ঘদিন বিদেশে কাটিয়েছিলেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে সাত বছর অতিবাহিত করেন। তবে কাতারে দীর্ঘ সাত বছর কাটালেও তিনি তেমন কিছু করতে পারেননি এবং দেশে ফেরার পর তাঁর বাড়িতে থাকার ঘরটি এখনো ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে।
জীবনের তাগিদে ও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তীব্র বাসনা থেকে রাজু পরবর্তীতে নিজের সহায়-সম্বল ও জমি বিক্রি করে এবং ঋণ নিয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। অনেক সংগ্রাম ও কষ্টের বিনিময়ে তিনি আমেরিকায় পৌঁছান। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণের আগেই বন্দুকধারীর গুলিতে তাঁর জীবন প্রদীপ নিভে গেল।
নিহত মো. রাজুর পরিবারে তাঁর স্ত্রী পলি আক্তার ছাড়াও দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে জান্নাতুল নাইমার বয়স ১২ বছর এবং ছোট মেয়ে রাইসা আক্তারের বয়স মাত্র আড়াই বছর। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু এবং পিতার এই চলে যাওয়ায় পরিবারটিতে এখন অথৈ সাগরে পড়ার দশা।
রাজুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর স্বজনেরা। নিহত রাজুর পিতা মোহাম্মদ উল্যাহ অত্যন্ত ভাঙা হৃদয়ে বলেন, ছেলেটা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য অনেক কষ্ট করেছে। অনেক কষ্টের বিনিময়ে আমেরিকা বা যুক্তরাষ্ট্রে গেছে। তাঁকে নিয়ে তাঁর নিজেরও অনেক আশা ছিল যে ছেলেটা প্রতিষ্ঠিত হবে, তাঁদের কাঁচা টিনের ঘরটি পাকা করবে। কিন্তু সেই কত আশা আজ সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তিনি তাঁর ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চান এবং সরকার যেন সেই ব্যবস্থাটুকু করে দেয়।
একইভাবে রাজুর স্বজন আবদুল আজিজ জানান, জীবনে অনেক সংগ্রাম করেছেন রাজু। সাত বছর কাতারে কাটালেও তেমন কিছু করতে পারেননি তিনি। শেষে নিজের সহায়-সম্বল বিক্রি করে স্বপ্ন পূরণের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তাঁর নির্মম মৃত্যু হলো। প্রথম আলো পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, এই মৃত্যুর সংবাদ নোয়াখালীতে পৌঁছানোর পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।








