যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রফতানিতে ১১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৬১ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই দুই মাসে মার্কিন বাজারে মোট ১৬১ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ১৪৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সামগ্রিক রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরের পুরো সময়ে বা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট রফতানি আয় হয়েছিল ৭৭৪ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরের শুরুতেই মার্কিন বাজারে পোশাক রফতানিতে এই গতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে।
তবে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের এই রফতানি চিত্রে মাসভিত্তিক কিছু ভিন্নতাও রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাইয়ে মার্কিন বাজারে রফতানি সামান্য হ্রাস পেয়েছিল। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে রফতানি হ্রাসের হার ছিল শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে, অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস অর্থাৎ আগস্টে এসে রফতানি বাড়ে উল্লেখযোগ্য হারে, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
মাসভিত্তিক এই তারতম্যের কারণে মাসিক গড় রফতানি আয়েও পরিবর্তন এসেছে। এর আগের অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মাসিক গড় রফতানির পরিমাণ ছিল ৬৪ কোটি স্পষ্ট ৫৪ লাখ ডলার। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সেই মাসিক গড় রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। এছাড়া চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বছর শেষে মোট রফতানি আয়ের একটি প্রাক্কলিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৬২ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানির এই গতিধারা নিয়ে কথা বলেছেন বিজিএমইএ ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিনিধি মহিউদ্দিন রুবেল। তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ রফতানি প্রবৃদ্ধি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক সংকেত।"
মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, "আগস্টের ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিকে পুরো বছরের প্রবণতা হিসেবে দেখার আগে আরও কয়েক মাসের তথ্য দেখা প্রয়োজন। কারণ জুলাইয়ে রফতানি সামান্য কমেছিল। ফলে দুই মাসের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি মূলত আগস্টের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।"








