যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কমল বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি
চলتی পঞ্জিকা বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সাড়ে ৬ শতাংশ কমেছে। এই সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি কমে ৪৬৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪৯৮ কোটি ডলার। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় এই পতন বাংলাদেশের বাণিজ্য খাতে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেଛି। চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি থেকে জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সাড়ে ৬ শতাংশ কমেছে। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এই পতনের ফলে সাত মাসের ব্যবধানে প্রধান এই বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩২ কোটি ডলার কমে গেছে। উল্লেখ্য, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে এ পণ্য খাত থেকে।
চলتی পঞ্জিকা বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমে ৪৬৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৯৮ কোটি ডলার। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে যে, নির্দিষ্ট এই সময়টিতে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের বাজার সংকুচিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম এই পরিস্থিতি বেশ ভালোভাবেই সামাল দিয়েছে। আলোচ্য সময়ে ভিয়েতনামের রপ্তানি কমেছে মাত্র ১ শতাংশ। সার্বिक পরিস্থিতি বিশ্লেಷণ করলে দেখা যায়, ভিয়েতনাম এই প্রতিযোগিতায় তুলনামূলকভাবে বেশ এগিয়ে রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানি ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশের মতো কমেছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে চীন থেকে প্রায় ৪৫৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে চীনের রপ্তানি ছিল ৬৯২ কোটি ডলার। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনের অবস্থান রয়েছে তৃতীয় স্থানে।
অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার রপ্তানি বেড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ৩ শতাংশের মতো বেড়ে ২৭৪ কোটি ডলারের পোশাকের পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৬৭ কোটি ডলার। একইভাবে কম্বোডিয়ার রপ্তানি সাড়ে ১০ শতাংশ বেড়ে ২৬২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে; আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৩৭ কোটি ডলার। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে ভারতের অবস্থান ষষ্ঠ এবং এই সময়ে দেশটির রপ্তানি ২৬ শতাংশের মতো কমে ২৪৫ কোটি ডলারে নেমেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩৩০ কোটি ডলার।
চলتی পঞ্জিকা বছরের প্রথম সাত মাসে সারাবিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি ৯ শতাংশের মতো কমেছে। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মোট চার হাজার ১৮৩ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানির পরিমাণ ছিল চার হাজার ৫৮০ কোটি ডলার।
আমদানির এই চিত্র ছাড়াও পোশাকের ইউনিটপ্রতি দরেও তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। আলোচিত সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের দর ইউনিটপ্রতি সার্বিকভাবে বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ। তবে এই বৃদ্ধির বিপরীতে বাংলাদেশের পোশাকের দর কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। এছাড়া ভিয়েতনামের পোশাকের দর ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং চীনা পোশাকের দর ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে। এর বিপরীতে মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের পোশাকের ইউনিটপ্রতি দর যথাক্রমে ১৪ ও ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।








