যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ নিয়ে ভাইরাল দাবির সত্যতা
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ ফুরিয়ে আসছে—এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, এই হিসাব ত্রুটিপূর্ণ এবং এটি খামখেয়ালিভাবে অপরিশোধিত তেলের মজুদ ও পরিশোধিত জ্বালানির ব্যবহারকে মেলানো হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৩২· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা এসপিআর-এর বর্তমান মজুদ এবং দেশটির জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ভাইরাল হয়েছে। এই ভাইরাল দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ মাত্র ১৪ দিনে ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হলে তা স্পষ্ট করতে সামনে আসে বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান।
তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা এসপিআর কমে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল বা ২৮৬.৬ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। এটি ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরের মজুদ। এ বছরের শুরুতে এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১৫ মিলিয়ন বা ৪১.৫ কোটি ব্যারেল। এর আগে গত মাসের শুরুর দিকে এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩০ কোটি ব্যারেল। অন্যদিকে, ২০২০ সালের শেষের দিকে এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৩৮ লাখ বা ৬৩.৮ মিলিয়ন ব্যারেল। উল্লেখ্য, চারটি ভূগর্ভস্থ লবণের গুহার মোট ধারণক্ষমতা হলো ৭১ কোটি ৪ লাখ বা ৭১৪ মিলিয়ন ব্যারেল।
ভাইরাল হওয়া অনলাইন দাবিগুলোতে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল তেল অবশিষ্ট রয়েছে এবং দৈনিক পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের পরিমাণ ২ কোটি ৭ লাখ বা ২০.৭ মিলিয়ন ব্যারেল। এই অঙ্ক কষে দাবি করা হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাত্র ১৪ দিনের তেল অবশিষ্ট আছে। তবে এই হিসাবটি সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাল হিসাবটিতে কাঁচা বা অপরিশোধিত তেল রিজার্ভের সাথে মোট পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহারকে মিলিয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি, এই হিসাবে দেশের বাণিজ্যিক মজুদ, আমদানি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। অর্থাৎ, কেবল এসপিআর-এর মজুদ দিয়ে দেশের সম্পূর্ণ জ্বালানি নিরাপত্তার প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।
এই পুরো বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে মূলত মার্কিন জ্বালানি বিভাগ, রয়টার্স এবং ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও বা এনপিআর-এর প্রতিবেদনের মাধ্যমে। আগস্ট মাসের ১৬ তারিখে এনপিআর-এর প্রতিবেদনে এবং আগস্ট মাসের ২৮ তারিখে এসপিআর রিজার্ভের লেভেল উল্লেখ করার মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এসব প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন প্রশাসনের আমলের বিভিন্ন তেল রিজার্ভের ওঠানামার বিষয়টিও সামনে আসে।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পরিস্থিতি এবং কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ নিয়ে ইন্টারনেটে যে ১৪ দিনে তেল ফুরিয়ে যাওয়ার দাবি ছড়িয়ে পড়েছে, তার কোনো বাস্তবভিত্তিক ভিত্তি নেই। বাণিজ্যিক মজুদ, দৈনিক আমদানি এবং দেশীয় উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে কেবল এসপিআর রিজার্ভের হিসাব দিয়ে জ্বালানির স্থায়িত্ব নির্ধারণ করা বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত নয়।








