যুক্তরাজ্যে কমছে হোটেলেও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের শেষে দেশের বিভিন্ন হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। একই সঙ্গে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় প্রবেশের ঘটনাও হ্রাস পেয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে হোটেলগুলোতে অবস্থানরত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। ২০২৬ সালের জুনের শেষের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ১৬০টি হোটেলে মাত্র ১৬ হাজার ২১ জন আশ্রয়প্রার্থী অবস্থান করছেন।
এক বছর আগে একই সময়ে এই হোটেলগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ছিল দ্বিগুণেরও বেশি, অর্থাৎ ৩২ হাজার ৪০১ জন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থানরত আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৬ হাজার ১৮ জনে গিয়ে পৌঁছেছিল।
আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা হ্রাসের এই প্রবণতার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সীমান্ত পারাপারের পরিসংখ্যানেও পরিবর্তন এসেছে। তথ্যে জানা গেছে, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ঘটনা এক বছরের ব্যবধানে ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে গ্রেটার ম্যানচেস্টার অঞ্চলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব অ্যান্ড্রু বার্নহাম, শাবানা মাহমুদ, কিয়ার স্টারমার এবং নুনি ইয়র্গেনসের মতো ব্যক্তিরা আলোচনায় রয়েছেন। এছাড়া দ্য গার্ডিয়ান, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেরি, ওয়ার্ক রাইটস সেন্টার এবং ইনফোমাইগ্রেন্টস এই বিষয়গুলো নিয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে।
অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কড়াকড়ির অংশ হিসেবে আইন প্রয়োগের চিত্রও উঠে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মোট ২১০টি ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ১৮১টি ঘটনায় শারীরিক নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিবাসী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সমাপ্ত ১২ মাসের হিসাব অনুযায়ী, অভিবাসী কর্মীদের স্পনসর করার লাইসেন্স বাতিলের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে ৪ হাজার ৪০৩টিতে দাঁড়িয়েছে। অথচ এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই লাইসেন্স বাতিলের সংখ্যা ছিল মাত্র ১ হাজার ৮২৮টি।
সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে শাবানা মাহমুদ মন্তব্য করেছেন যে এটি সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনছে এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করছে। যুক্তরাজ্য সরকারের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপের ফলে সামগ্রিক অভিবাসন চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।








