যান্ত্রিক ত্রুটিতে রামপালের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ, বাড়ে লোডশেডিং
যান্ত্রিক ও কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসায় জাতীয় গ্রিড ও ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ও কারিগরি ত্রুটির দেখা দেওয়ায় এর বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটটি হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সার্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে জাতীয় গ্রিড এবং ওজোপাডিকোর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায়। উৎপাদন হ্রাসের এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকটাই বেড়ে গেছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া ২ নম্বর ইউনিটটি 'কুল ডাউন' বা ঠান্ডা করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই মূলত পরবর্তী কার্যপদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), ওজোপাডিকোগুলোর সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং বাগেরহাটসহ আশেপাশের অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের এই ঘাটতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে।
ইউনিটের ত্রুটি সারানোর বিষয়ে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মেরামতের জন্য ভারতীয় বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের আসার কথা ছিল। তবে বুধবার বিকাল পর্যন্ত সেই ভারতীয় বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাননি। তা সত্ত্বেও বসে না থেকে দেশীয় প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যে বয়লারের প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে আনোয়ারুল আজিম জানান, ভারতীয় বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা এসে পৌঁছালে বয়লারের মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এরই মধ্যে দেশীয় প্রকৌশলীরা বয়লারের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির শতভাগ উৎপাদন স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।
উল্লেখ্য, রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও বাগেরহাট অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করে ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং তা মেরামতে কয়েক দিন সময় লাগার সম্ভাবনার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। দেশীয় প্রকৌশলীদের প্রাথমিক কাজ শুরুর পর ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা যোগ দিলে দ্রুততম সময়ে বয়লার মেরামত শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








