যশোরে শিশু খাদ্য বিষক্রিয়া বৃদ্ধি, ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার
যশোরে অস্বাস্থ্যকর ও ভেজাল খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর গত এক সপ্তাহে ১৫ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

যশোরে গত এক সপ্তাহে খাবারে বিষক্রিয়ার শিকার হয়ে ১৫টি শিশু যশোর জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অননুমোদিত ও সম্ভাব্য বিষাক্ত প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার কারণে এই শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। আক্রান্ত এই শিশুদের মধ্যে ১০ জন ছেলে এবং ৫ জন মেয়ে রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের অননুমোদিত খাবার শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর ফলে তাদের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও খাদ্য বিষক্রিয়ার এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং র্যাব-৬ যৌথভাবে যশোরে চলতি বছর এক ডজনেরও বেশি অভিযান পরিচালনা করেছে। বাজারে ক্ষতিকর ও ভেজাল পণ্যের বিস্তার রোধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অভিযানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি রিভা ফুডস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা বিএসটিআই-এর জাল সিল ব্যবহার করা হচ্ছিল। সেখান থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার সমমূল্যের এমন জাল সিলযুক্ত পণ্য জব্দ করা হয়। এছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর শহরে আরও একটি অভিযানে ৪০০ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল চিপস জব্দ করা হয়।
চলতি বছরের ৫ এপ্রিল কেশবপুরের ভরচি গ্রামে পরিচালিত আরেকটি যৌথ অভিযানে হাজার হাজার লিটার ভেজাল তরল দুধ জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় দুধের ওই কারবারিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি, বিসমিল্লাহ মধু ট্রেডিং নামের প্রতিষ্ঠানের মালিক নিম্নমানের মধু ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য উৎপাদনের দায়ে অভিযুক্ত হন। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
খাবারে ভেজালের কুফল সম্পর্কে চিকিৎসকরা অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। যশোর জেনারেল হাসপাতালের ডা. নাজমুল সাদিক বলেন, খাবারে অননুমোদিত টেক্সটাইল ডাই ও কেমিক্যালের ব্যবহার শিশুদের রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে শিশুদের যকৃৎ বা লিভার এবং কিডনির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি এসব রাসায়নিকের প্রভাবে ক্যানসারের ঝুঁকিও বহুগুণে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
এই ধরনের অপরাধের পেছনে যারা জড়িত, তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ডা. নাজমুল সাদিক আরও বলেন, এই চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে অনুকরণীয় বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাজারের সঠিক তদারকি বজায় রাখতে বিএসটিআই-এর কর্মকর্তা এবং স্যানিটারি পরিদর্শকদের আরও বেশি শক্তিশালী ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।








