যশোরে ইমাম-মুয়াজ্জিন সম্মাননার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ
যশোরের কেশবপুরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সম্মাননা ভাতার তালিকা তৈরি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পাঁজিয়া ইউনিয়নের একটি মসজিদে কমিটি পরিবর্তন ও নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেশের মসজিদগুলোর জন্য একটি বিশেষ সম্মাননা ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইমামদের জন্য ৫০০০ টাকা, মুয়াজ্জিনদের জন্য ৩০০০ টাকা এবং খাদেমদের জন্য ২০০০০ টাকার সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের গর্বাঞ্জা বায়তুন নূর জামে মসজিদের তালিকা প্রস্তুত করা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ কামালের পক্ষ থেকে ৮টি মসজিদের তালিকা এবং স্থানীয় সাংসদের পক্ষ থেকে ৭টি মসজিদের তালিকা দেওয়া হয়। এছাড়া সাংসদের কোটায় মোট ৭৭টি মসজিদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল।
গর্বাঞ্জা বায়তুন নূর জামে মসজিদের মূল তালিকা তৈরি ও নাম পরিবর্তনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতা ইসলাম সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তালিকা তৈরির বিষয়ে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। তিনি বলেন, স্থানীয় জামায়াত নেতারা নিজেদের সুবিধাজনক নাম বসিয়ে তালিকা জমা দেন এবং পরে তারা জানতে পারেন যে মূল ইমাম ও খাদেমের নামই বদলে ফেলা হয়েছে।
এই ঘটনায় পাঁজিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মাওলানা আব্দুল রহমান, আব্দুল রাজ্জাক, টবিবুর রহমান এবং আব্দুল মতলেম মোল্লা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়। স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট এই বিরোধ ও জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত অভিযোগ নিয়ে সংসদ সদস্যের দারস্থ হন।
মসজিদের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব ও তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী গর্বাঞ্জা বায়তুন নূর জামে মসজিদটিকে বর্তমানের সম্মাননা ভাতার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ কামাল। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্য নয়। তিনি আরও বলেন, তার পক্ষ থেকে আলাদা কোনো নির্দেশনা ছিল না এবং মসজিদ কমিটি থেকে তাকে যে তালিকা সরবরাহ করা হয়েছিল, তিনি মূলত সেটিই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন।








