মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালেও চরম সংকট ও জনবল ঘাটতি
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তীব্র জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে। ২১ লাখ মানুষের ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যার চেয়ে দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকছে। পাশাপাশি আইসিইউ, সিসিইউ ও এমআরআই সেবা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত রয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তীব্র জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। এই জেলার প্রায় ২১ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবার জন্য এই একমাত্র বড় কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু বর্তমানে নানা অব্যবস্থাপনা ও ঘাটতির কারণে এখানে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চারশ থেকে পাঁচশ রোগী ভর্তি থাকেন। অথচ এটি মাত্র ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক রোগীকে মেঝে বা বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
চিকিৎসক ও জনবলের ঘাটতি এই হাসপাতালের সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এখানে অনুমোদিত ৮৪ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৪২ জন। এছাড়া হাসপাতালের মোট ৪০৮টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ১০৩টি পদই শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি ১৪ জন প্রযুক্তিবীদের (টেকনোলজিস্ট) প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন।
চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালে এমআরআই, সিসিইউ এবং আইসিইউ সেবা একেবারে নেই। এমনকি প্রায় ২০০ রোগী বর্তমানে ডায়ালাইসিসের অপেক্ষায় থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না।
রোগী ও স্বজনদের ক্ষোভ ও আক্ষেপ রয়েছে এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির করুণ দশা নিয়ে। ডায়ালাইসিসের জন্য যোগাযোগ করেও শিডিউল না পাওয়ার কথা জানিয়ে রোগী আলতা মিয়া বলেন, জেলার একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্রটি জোড়াতালি দিয়ে চলছে এবং এখানে এমআরআই, সিসিইউ, আইসিইউ সেবা একেবারে নেই। পারুল বেগম ও ইয়ামিন মিয়া নামের অন্য রোগী ও স্বজনেরাও হাসপাতালের নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছেন।
পরিস্থিতির বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাস জানিয়েছেন, আমাদের এই হাসপাতাল ২৫০ শয্যা, ফলে এখানে সংকট স্বাভাবিক। আমরা প্রতিটা সমস্যা সুন্দরভাবে সমাধানের জন্য কাজ করছি। একইসঙ্গে বিষয়গুলো আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, হাসপাতালে অনেক সমস্যা আছে। এসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা চাইলেও কিছু করতে পারবো না। কারণ হাসপাতাল পরিচালনার জন্য তাদের নিজস্ব বোর্ড আছে। ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।








