মেঘনার চরে জলচর পরিযায়ী পাখির জরিপে ১৪ সংকটাপন্ন প্রজাতি শনাক্ত
নোভেম্বর ২০২৫ থেকে এপ্রিল ২০২৬ মেয়াদে মেঘনার মোহনা ও এর চরসমূহে পরিচালিত জরিপে ৫২ প্রজাতির জলচর পাখি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বৈশ্বিকভাবে সংকটাপন্ন ১৪ প্রজাতির পাখি শনাক্ত করা হয়েছে এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি ১০ বছরব্যাপী সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নোভেম্বর ২০২৫ থেকে এপ্রিল ২০২৬ সময়সীমায় নোয়াখালীর মেঘনা মোহনা ও এর চরসমূহে জলচর পরিযায়ী পাখির একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপ পরিচালিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বন অধিদপ্তর এবং নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম) যৌথভাবে এই জরিপ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে। এই কার্যক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, প্রথম আলো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে আবদুর রব মোল্লা, শোয়েব আলী ও নাঈম খন্দকার যুক্ত ছিলেন।
পরিচালित এই জরিপে মোট ৫২ প্রজাতির জলচর পাখি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো বৈশ্বিকভাবে সংকটাপন্ন ১৪ প্রজাতির পাখির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে এই চরগুলোতে। বিশেষ করে মেঘনার গঙ্গুইরার চরে বিশ্বব্যাপী মহাবিপন্ন চামচঠুঁটো বাটানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
সংরক্ষণ গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে বর্তমানে মাত্র ২৮০ থেকে ৬২০টি চামচঠুঁটো বাটান টিকে আছে। এর আগে ২০১৫-১৬ সালের দিকে ৪৮টি চামচঠুঁটো বাটান পাওয়া গিয়েছিল। বিশ্বজুড়ে এই পাখির সংখ্যা যখন অত্যন্ত সীমিত, তখন মেঘনার চরে এদের উপস্থিতি এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব তুলে ধরে।
জরিপ চলাকালীন ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মেঘনার সাতটি চরে ৩২ হাজারের বেশি পাখির দেখা মিলেছে। এর মধ্যে শুধু ডোবাচরেই ১২ হাজারের বেশি পাখির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষ প্রজাতির পাখিদের মধ্যে দেশি গাঙচষার একটি বড় ঝাঁক দেখা গেছে, যাতে ১,৩৮৮টি পাখি ছিল। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে মাত্র ২ হাজার ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৯০০ দেশি গাঙচষা টিকে রয়েছে।
এ ছাড়া মেঘনার এই চরগুলোতে ৯ হাজার কালোলেজ জৌরালি এবং ১ হাজার ৫০৭টি ইউরেশীয় গুলিন্দার সন্ধান পাওয়া গেছে। শীতকালীন পরিযায়ী পাখির অন্যতম নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে মেঘনা মোহনার চরগুলোর এই বিপুল সমাগম গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এই জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করার জন্য প্রকল্পের অধীন একটি ১০ বছরব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে মেঘনার মোহনা ও সংলগ্ন চরগুলোর সংকটাপন্ন পাখিসহ সামগ্রিক জলচর পাখি রক্ষা করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








