মিয়ানমারে রপ্তানি মূল্য পরিশোধে তৃতীয় দেশের অনুমোদনের পথে এনবিআর
মিয়ানমারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মূল্য তৃতীয় দেশ থেকে পরিশোধের একটি আবেদন অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। যুদ্ধজনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ডলার–সংকটের প্রেক্ষাপটে এই নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

মিয়ানমারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধজনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ডলার–সংকটের কারণে দেশটির ব্যবসায়ীরা এখন তৃতীয় দেশ থেকে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে চান। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মিয়ানমারে রপ্তানি হওয়া পণ্যের দাম তৃতীয় কোনো দেশ থেকে আনার অনুমতি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে একটি আবেদন করেছে 'এ ওয়ান ফিশ অ্যান্ড মেরিন ফুড' নামের একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই আবেদনটি নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রতিষ্ঠানটির এই আবেদনটি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। জুলাই মাসে প্রকাশিত এই তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে এবং রপ্তানিকারকদের দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাণিজ্যিক সংশ্লিষ্টতা অনুযায়ী, বাংলাদেশের পণ্য সাধারণত টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়েই মিয়ানমারে রপ্তানি হয়ে থাকে। এই স্থলবন্দরটি দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যের মূল পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে পেমেন্ট বা মূল্য পরিশোধের জটিলতা অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছিল।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রোহিঙ্গা আগমনের পর দুই দেশের বাণিজ্য আগের তুলনায় কমে প্রায় ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এমন এক পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তৃতীয় দেশ থেকে মূল্য পরিশোধের এই প্রস্তাব আসায় রপ্তানিকারকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে তা দুই দেশের মধ্যকার স্থবির হয়ে পড়া বাণিজ্যে গতি ফেরাতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে 'এ ওয়ান ফিশ অ্যান্ড মেরিন ফুড'–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এম ডি আলম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "বিদেশি মুদ্রা আয়ের এমন সুযোগের জন্যও ঘুরতে হয়, অপেক্ষা করতে হয়।" তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি খাতের জটিলতা এবং প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে তৃতীয় দেশ থেকে মূল্য পরিশোধের এই পদ্ধতি চালু হলে রপ্তানিকারকরা ডলার–সংকট ও নিরাপত্তাঝুঁকি উভয় থেকেই কিছুটা স্বস্তি পাবেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








