এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ও রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এইচএসবিসি বাংলাদেশ দশমবারের মতো ‘এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস’ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের রপ্তানি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং হাইটেক শিল্পের নানা দিক তুলে ধরেন উদ্যোক্তারা।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

আজ মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এইচএসবিসি বাংলাদেশ দশমবারের মতো ‘এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস’ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। দেশের রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত এই আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন মো. মাহবুব উর রহমান। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে উলকাসেমির প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন এনায়েতুর রহমান। তিনি জানান, তিনি বুয়েট থেকে পড়াশোনা করে সিলিকন ভ্যালিতে চলে যান এবং সেখানে গিয়ে দেখেন যে চিপের প্রয়োজনীয়তা অসীম ও প্রতিটি প্রযুক্তিতে চিপের প্রয়োজন হচ্ছে। এই উপলব্ধি থেকে ২০০৭ সালে দেশে ফিরে তিনি চার প্রকৌশলীকে নিয়ে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তাঁদের কোম্পানিতে কর্মরত প্রকৌশলীর সংখ্যা ৬০০ এবং আমেরিকার ১০০ কোম্পানি তাঁদের গ্রাহক। এ ছাড়া অ্যাপলের ফোনের চিপের কাজে উলকাসেমির ৪০ জন প্রকৌশলী নিয়োজিত রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে এনায়েতুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অনেক ও তাঁরা পরিশ্রমী। যদি যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তাহলে তাঁরা ভালো করবেন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থা একটি বড় বিষয় উল্লেখ করে তিনি জানান যে শিক্ষাপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে এবং স্কুল পর্যায় থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে যথাযথ পাঠদান করতে হবে। বিশ্বজুড়ে চিপের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে এখানে আমাদের অংশীদারত্ব বাড়াতে হবে এবং পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আহসান খান চৌধুরী। তিনি বলেন, এইচএসবিসির এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস প্রদানের উদ্যোগ বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। প্রাণ গ্রুপ কৃষিপণ্য দিয়ে যাত্রা করেছিল উল্লেখ করে তিনি জানান যে বাংলাদেশের আরও বেশি পণ্য বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়া এবং বাংলাদেশের ব্র্যান্ডকে ছড়িয়ে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। এ ছাড়া কৃষি খাতে তাঁরা ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন বলে তিনি জানান।
দেশের মানুষের প্রশংসা করে আহসান খান চৌধুরী বলেন যে বাংলাদেশের মানুষ ভালো ও পরিশ্রমী এবং তাঁরা উদ্যোক্তাদের সঙ্গে থাকতে চান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে অবকাঠামো সমস্যার সমাধান না হলে রপ্তানি এগোবে না। একই সুরে মো. মাহবুব উর রহমানও মন্তব্য করেন যে বিদ্যুৎ–গ্যাসসহ অবকাঠামো এখন প্রধান সমস্যা এবং রপ্তানি বাড়াতে হলে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে।
উর্মি গ্রুপের আসিফ আশরাফ তাঁর বক্তব্যে ভবিষ্যতে উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা বাড়িয়ে রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে জ্বালানি এখন তাঁদের প্রধান সমস্যা এবং এর দ্রুত সমাধান করতে হবে। এ ছাড়া সময়মতো কাঁচামাল পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।








