মাওয়া পুরোনো ফেরিঘাট সংযোগ সড়কের বেহাল দশা, সংস্কারে অনীহা চার সংস্থার
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে মাওয়া পুরোনো ফেরিঘাট সংযোগ সড়কের বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এই সড়কের দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে না চার সংস্থা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চালকরা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া এলাকায় অবস্থিত পুরোনো ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কটির বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় এর বিভিন্ন স্থানে ইট সরে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই মাওয়া পুরোনো ফেরিঘাটের এই সংযোগ সড়কটির দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট চার সরকারি সংস্থা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ—এই চার সংস্থার কেউ-ই এর দায় নিতে চাইছে না।
দৈনিক সমকাল সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এই সড়কের বেহাল দশা নিয়ে স্থানীয় মানুষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জীব খান আক্ষেপ করে বলেছেন, 'পদ্মা সেতুর পাশে মাওয়া বাজার। এখানকার রাস্তা এত খারাপ ভাবাই যায় না।' সড়কটিকে ঘিরে মাওয়া বাজার এলাকায় তিন শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু বেহাল অবস্থার কারণে এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং যাতায়াতে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়কটির করুণ চিত্র তুলে ধরে অটোরিকশাচালক সুরুজ মিয়া জানান, 'পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগের দিন তড়িঘড়ি করে একদিনে ইট বিছানো হয়েছিল। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। আমরা প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন অটোরিকশাচালক এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি। গর্তের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। কখনও কখনও অটোরিকশা উল্টে যাত্রীরা আহত হন।' উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে এই ২০০ মিটার সড়কে ইট বিছিয়ে একটি সাময়িক সংস্কার করা হয়েছিল। এরপর থেকে সড়কটি আর কোনো সংস্কারের মুখ দেখেনি।
সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ ও মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) এমএম হানিফ জানিয়েছেন, 'রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন নয়। বিগত দিনে এটি বিআইডব্লিউটিএ ব্যবহার করেছে। তবে উপর মহলের কোনো নির্দেশনা এলে এবং বাজেটে ব্যয় ধরা হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ মেরামতের ব্যবস্থা করতে পারে।'
অন্যদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেছেন, 'পুরোনো ফেরিঘাট থাকাকালে সড়কটি আমাদের আওতায় ছিল। ফেরিঘাট শিমুলিয়ায় স্থানান্তরের পর ওই রাস্তা আর আমাদের আওতায় নেই। এখন এটি পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন।' তবে বিআইডব্লিউটিএ-এর এই দাবি অস্বীকার করেছে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ। সেতু কর্তৃপক্ষের আবু সাদ নিলয় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, 'সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় যতগুলো রাস্তা আছে, সবগুলোই ঠিক আছে। ওই সড়ক পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন নয়।'
স্থানীয় মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হালিম শেখ এই সড়কের দীর্ঘ ইতিহাস ও বর্তমান অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেছেন, 'সড়কটি ৬০-৭০ বছরের পুরোনো। এ সড়কের কোনো কোড নম্বর নেই, ভাবলেই অবাক লাগে।' ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে এই রাস্তা মেরামতের অক্ষমতার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব অর্থে এটি সংস্কার করার সামর্থ্য নেই। উপজেলা পরিষদ অর্থ বরাদ্দ দিলে পাকা বা সংস্কার করা সম্ভব।'








