মহানবী (সা.) ও আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের ঐতিহাসিক কৌশল
মদিনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলুলের উচ্চাশা এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দূরদর্শী নেতৃত্ব নিয়ে একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ইবনে উবাইয়ের নানা কর্মকাণ্ড এবং প্রিয়নবী (সা.)-এর রাজনৈতিক ধৈর্যের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মদিনা থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায়, প্রাক-ইসলামি মদিনার অন্যতম বিশিষ্ট নেতা ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলুল। মদিনায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরতের ফলে এই নেতার রাজনৈতিক উচ্চাশা ও প্রভাব সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মূলত মদিনার নেতৃত্ব নিজ হাতে রাখার যে পরিকল্পনা তার ছিল, তা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনের পর পরিবর্তিত হয়ে যায়।
ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের রাজনৈতিক অসন্তোষ ও ষড়যন্ত্রের নানা দিক প্রকাশ পেয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি ঘটনা ঘটেছিল ওহুদ যুদ্ধের সময়। এই যুদ্ধে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই প্রায় ৩০০ জন লোক নিয়ে ময়দান থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন, যা মুসলিম বাহিনীর জন্য একটি বড় ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মদিনায় ফিরে যাওয়ার পর আবদুল্লাহ ইবনে উবাই অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, 'মদিনায় ফিরে যাওয়ার পর আমাদের মধ্যে যারা অধিক সম্মানিত, তারা অবশ্যই অপমানিত মুহাজিরদের সেখান থেকে বের করে দেবে।' তার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল সাহাবিদের মধ্যে।
ইবনে উবাইয়ের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের পর হজরত ওমর রা. অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তিনি তাকে হত্যার অনুমতি চেয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শরণাপন্ন হন। কিন্তু প্রিয়নবী (সা.) চরম রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে সেই আবেদন নাকচ করে দেন।
হজরত ওমরকে নিবৃত্ত করে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, 'ওমর, তাকে হত্যা করার অনুমতি আমি দিতে পারি না। এমন হলে জগতের নানা প্রান্তের মানুষ বলাবলি করবে যে, মুহাম্মদ বিজয়ের পর নিজের সাহাবিদেরই হত্যা করছে।' এই বাণীর মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যতের সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এড়াতে সক্ষম হন।
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণটি জাগো নিউজ-এর সম্পাদকীয় ডেস্কের একটি প্রতিবেদন হিসেবে উঠে এসেছে। এতে ইউ দৌলা এবং হজরত আয়েশা (রা.)-এর প্রসঙ্গসহ প্রিয়নবীর নেতৃত্ব ও সুদূর প্রসারী কৌশলের বিষয়টি গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।








