মঠবাড়িয়ায় কৃষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বর্ণালংকার লুট
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কৃষকের বসতঘর থেকে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুট করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় এক কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু ও বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে নিহত ওই কৃষকের বসতঘর থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটি পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মঠবাড়িয়া উপজেলার ছয় নম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের পাঁচশত কুড়া গ্রামের মিস্ত্রি বাড়িতে। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ওই বসতঘরের ভেতর থেকে নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে ঠিক কী কারণে বা কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই নৃশংস ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে পরিবারের অন্য সদস্যদের অচেতন করে ফেলে। এরপর বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। ৭/৮ জনের সংঘবদ্ধ একদল দুর্বৃত্ত এই পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যদের অচেতন অবস্থায় রেখে ঘরে এই লুটপাট চালানো হয়।
সংবাদ সংগ্রহ ও ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার সঙ্গে পুলিন মিত্র, প্রবীর মিত্রে, সৌমিত্র সিনহা এবং পার্থ চক্রবর্তী নামক ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট বা কোনো না কোনোভাবে তথ্যপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ইত্তেফাক সংবাদমাধ্যম এই সংবাদটি কাভার করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র্যাবও এই বিষয়ে তৎপর রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের স্বার্থে নিহতের মরদেহ মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে পিরোজপুর জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। ৭/৮ জনের সংঘবদ্ধ একদল দুর্বৃত্ত কীভাবে এই অপরাধ ঘটাল এবং পরিবারের সদস্যদের কীভাবে অচেতন করা হলো, তা উদ্ঘাটনে পুলিশ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং লুণ্ঠিত প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করতে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে।
এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্ত এগিয়ে গেলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।








