ভোলা-বরিশাল সড়ক সংযোগ ও মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত
দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সমকাল-এর তথ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি দ্বীপবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভোলা জেলায় প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই জনপদের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সহজতর করার জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রথম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালে এই রুটে আবার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হয়, যা প্রকল্পটির অগ্রগতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয়।
সমীক্ষা ও প্রাথমিক প্রস্তুতির পর ২০২০ সালের ৮ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বরিশাল-ভোলা সড়কে তেঁতুলিয়া ও কালাবদর নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সেতুর মাধ্যমে ভোলার সঙ্গে মূল সড়কের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়।
প্রস্তাবিত এই সেতুটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার এবং এর প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা। বিশাল অংকের এই ব্যয় এবং দীর্ঘ সেতু নির্মাণের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তীতে আরও নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ও নীতিনির্ধারক মহলের আলোচনার মাধ্যমে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।
এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরবর্তীতে প্রস্তুত করা হালনাগাদ খসড়া প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পরিকল্পনা কমিশনে ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে পাঠানো হয়। এই দাপ্তরিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, এই সমগ্র যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ভোলা-বরিশাল সড়ক সংযোগ ও সেতু নির্মাণের উদ্যোগের সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও দল যেমন নাজিউর রহমান মঞ্জুর, তোফায়েল আহমেদ এবং আন্দালিব রহমান পার্থ যুক্ত ছিলেন। এছাড়া এই অঞ্চলের যোগাযোগের পরিধি চারটি সংসদীয় আসন জুড়ে বিস্তৃত। এই সড়ক ও মহাসড়ক নির্মাণের ফলে ভোলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের যাতায়াত এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এক নতুন যুগের সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








