ভোটাধিকার পাওয়ার আগেই মার্কিন কংগ্রেসে জিনেট র্যাঙ্কিন
যুক্তরাষ্ট্রে নারীরা পূর্ণ ভোটাধিকার লাভ করার আগেই ১৯১৬ সালের নভেম্বরে মন্টানা থেকে প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন জিনেট র্যাঙ্কিন। রিপাবলিকান পার্টির এই নেত্রী ১৯১৭ সালের ২ এপ্রিল শপথ নেন এবং পরবর্তীতে বিশ্বযুদ্ধের বিপক্ষে ভোট দিয়ে ইতিহাসে স্থান করে নেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছিলেন জিনেট র্যাঙ্কিন। দেশটিতে নারীরা সার্বজনীন ভোটাধিকার পাওয়ার আগেই তিনি মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯১৬ সালের নভেম্বরে, যখন তিনি মন্টানা রাজ্য থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে জয়লাভ করেন।
জিনেট র্যাঙ্কিন এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হিসেবে। মন্টানার ভোটারদের রায়ে জয়ী হওয়ার পর তিনি মার্কিন কংগ্রেসে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত করেন। তার এই নির্বাচন সে সময়ে নারী অধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
নির্বাচনে জয়ের ধারাবাহিকতায় ১৯১৭ সালের ২ এপ্রিল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এর মাধ্যমে তিনি মার্কিন আইনসভায় প্রবেশকারী প্রথম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। শপথ নেওয়ার পর তিনি তার রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং দেশের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
রাজনীতির মাঠে তার অবস্থান ছিল অত্যন্ত দৃঢ় ও স্বতন্ত্র। প্রথম ও দ্বিতীয়—উভয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অংশগ্রহণের বিপক্ষে ভোট দেওয়া কংগ্রেসের একমাত্র সদস্য ছিলেন জিনেট র্যাঙ্কিন। যুদ্ধবিরোধী এই অবস্থানের কারণে তিনি মার্কিন রাজনীতিতে বিশেষভাবে আলোচিত ও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
নিজেকে নিয়ে তিনি আশাবাদী এক মন্তব্য করেছিলেন যা আজও স্মরণ করা হয়। তিনি বলেছিলেন, "আমি হয়তো কংগ্রেসের প্রথম নারী সদস্য, কিন্তু শেষজন নই।" তার এই দূরদর্শী বাণী পরবর্তীতে সত্য প্রমাণিত হয়েছিল এবং বহু নারী পরবর্তীতে রাজনীতিতে আসার অনুপ্রেরণা পান।
উল্লেখ্য, জিনেট র্যাঙ্কিনের কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়ার বেশ কিছুদিন পর দেশব্যাপী নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়। ১৯২০ সালের ২৬ আগস্ট মার্কিন সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী অনুমোদনের মাধ্যমেই কেবল যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নারীদের ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে।








