ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে মার্কিন কোম্পানি
সোমবার হোয়াইট হাউসের ঘোষণা অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় চীন ও রুশ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকা তেলক্ষেত্রের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে মার্কিন তেল কোম্পানি নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স (এনএবিএপি)। এর পাশাপাশি ভেনেজুয়েলা সরকার কোম্পানিটিকে নতুন করে ১৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সোমবার এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, মার্কিন তেল কোম্পানি নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স (এনএবিএপি) ভেনেজুয়েলায় এতদিন চীন ও রুশ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকা বেশ কিছু তেলক্ষেত্রের দায়িত্ব বা নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্টতায় এই বড় পরিবর্তন ঘটতে চলেছে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে ১৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এনএবিএপিকে। সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলায় মোট ১৭টি প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ পাবে এই মার্কিন কোম্পানি। এর আগে এসব তেলক্ষেত্রের কিছু অংশ চীন ও রাশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে ছিল।
চীন ও রাশিয়ার যে কোম্পানিগুলোর প্রকল্প এনএবিএপি পাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে চায়না কনকর্ড রিসোর্সেস, সিনোপেক এবং সিএনপিসি (চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন)। এই পরিবর্তনের ফলে আগে যে তেল চীনে পাঠানো হতো, তা এখন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
চুক্তি ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার শর্ত অনুযায়ী, এই কোম্পানির ৩৫ শতাংশ মালিকানার ওপর অধিকার থাকবে মার্কিন সরকারের। এছাড়া মোট উৎপাদনের ২০ শতাংশ তেল উৎপাদন খরচে কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রাধিকার পাবে। হোয়াইট হাউসের ঘোষণা অনুযায়ী, বাকি ৮০ শতাংশ তেল কেনার ক্ষেত্রেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে প্রথম অধিকার দেওয়া হয়েছে।
কোম্পানির শাসন কাঠামো ও পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এনএবিএপির পরিচালনা পর্ষদ ও পরিচালকদের যেকোনো সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। এছাড়া এই কোম্পানির পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যকে অবশ্যই মার্কিন নাগরিক হতে হবে।
বর্তমানে এই মার্কিন তেল কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন ভেনেজুয়েলার ব্যবসায়ী আলেহান্দ্রো বেতানকুর্ট। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিশ্রমী মানুষ ও বিপুল সম্ভাবনাময়—এসব কারণে ভেনেজুয়েলা সমৃদ্ধ। এই লেনদেন সেই সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে এবং বিষয়টি ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের মানুষের জন্যই বড় সুফল বয়ে আনবে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ব্যবস্থার ফলে শুধু মার্কিন সরকার ও মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্যই নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে না, বরং এই তেলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারও উন্মুক্ত হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ব্যারেল তেলসম্পদকে কেন্দ্র করে এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।








