বয়সবাদ প্রবীণদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব
এজিজম বা বয়সবাদ মানুষের নিজেদের সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে এবং প্রবীণদের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স নিয়ে ইতিবাচক ধারণা দীর্ঘায়ু ও উন্নত স্মৃতিশক্তির সঙ্গে যুক্ত। তবে দৈনন্দিন জীবনে প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে বয়সবাদী আচরণের শিকার হন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

এজিজম বা বয়সবাদ মানুষের নিজেদের সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে এবং এর প্রভাব প্রবীণদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ে। বয়স সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা এবং বার্ধক্যের বিভিন্ন ধরনের estereotip প্রবীণদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে। ম্যাকমাস্টার ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন এজিংয়ের পারমিন্দর রায়নার এই বিষয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করে জানিয়েছেন, বার্ধক্য কোনো ধ্বংসাত্মক শক্তি নয়, এটি আধুনিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি অসাধারণ অর্জন।
যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ থেকে ৮০ বছর বয়সী ২ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় বয়সবাদের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী ৯৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তারা দৈনন্দিন জীবনে কোনো না কোনো ধরনের বয়সবাদী আচরণের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। এই ধরনের বয়সবাদী আচরণ ও নেতিবাচক মনোভাব প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
বয়স নিয়ে নেতিবাচক ধারণার সঙ্গে নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত জটিলতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, জ্ঞানীয় কার্যকারিতায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়া, এবং সেই সঙ্গে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। বয়সবাদ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে তারা নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন।
অন্যদিকে, বয়স সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা থাকার সঙ্গে রয়েছে দারুণ সব সুফল। ইয়েল স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক বেকা লেভির গবেষণায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তার গবেষণায় দেখা যায়, বয়স সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা থাকা ব্যক্তিরা নেতিবাচক ধারণা পোষণকারীদের তুলনায় গড়ে সাড়ে সাত বছর বেশি বেঁচেছেন। এছাড়া ইতিবাচক মানসিকতা উন্নত স্মৃতিশক্তির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
সমাজে বয়স বাড়ার ইতিবাচক দিকগুলোও সামনে আসছে। ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে তাদের জীবনে অন্তত একজন সফলভাবে বয়স বাড়ার রোল মডেল রয়েছেন। এই ধরনের রোল মডেল বা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত সমাজে প্রবীণদের সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা ভাঙতে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মতে, বয়সবাদ ও বয়sভিত্তিক বৈষম্য দূর করা অত্যন্ত জরুরি। প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সমাজকে বয়স নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ইতিবাচক মানসিকতা ও সম্মানজনক আচরণই পারে প্রবীণদের জীবনকে আরও দীর্ঘ ও সুন্দর করতে।








