ব্রিকস সম্মেলন ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে মোদী, পুতিন ও শি জিনপিং
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদী, ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিংয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারত, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এই সময়ে সামনে এসেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নরেন্দ্র মোদী, ভ্লাদিমির পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সমীকরণগুলো নতুন করে মূল্যায়িত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রিকস ছাড়াও ন্যাটো, এসসিও এবং ওআইসি-র মতো সংস্থাগুলোর গতিপ্রকৃতিও এই ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
<প্রসঙ্গ>বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্কে বাণিজ্য ব্যবধান একটি বড় বিষয় হিসেবে রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ভারতের সাথে চীনের ১১২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ব্যবধান রয়েছে। এই বিশাল অংকের বাণিজ্য ব্যবধান দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য দিক।
অন্যদিকে, রাশিয়ার সাথে ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্কের চিত্র ভিন্ন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাশিয়ার সাথে ভারতের প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। বৈশ্বিক এই বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশ এবং ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নরেন্দ্র মোদী, ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার কূটনৈতিক আলাপচারিতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বিগত দিনের বিভিন্ন নেতার কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও বর্তমান পরিস্থিতিকে বুঝতে সাহায্য করে। অতীতে এই অঞ্চলে রাজীব গান্ধীসহ বিভিন্ন শীর্ষ নেতা নানা কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় ভূরাজনীতির মারপ্যাঁচ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন সবসময়ই বিদ্যমান ছিল।
দেং শিয়াওপিংয়ের একটি ঐতিহাসিক উক্তি এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে স্মরণ করা যেতে পারে। তিনি বলেছিলেন, "আমাদের প্রজন্মের হয়তো সীমান্ত সমস্যা সমাধানের মতো প্রজ্ঞা নেই। তাই এটি ভবিষ্যতের আরও প্রজ্ঞাবান প্রজন্মের জন্য রেখে দেই।" এই দূরদর্শী চিন্তাধারা আজও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকদের মনে করিয়ে দেয় যে অনেক জটিল সমস্যার সমাধান ভবিষ্যতের ওপর ছেড়ে দিতে হয়।
সব মিলিয়ে, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের এই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চে নরেন্দ্র মোদী, ভ্লাদিমির পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। বাণিজ্য ব্যবধান এবং বাণিজ্য উদ্বৃত্তের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বিশ্বনেতারা কীভাবে আগামী দিনের পথ নকশা তৈরি করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








