বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি ও বিদেশি ঋণ কমেছে
বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ ও স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত জুনে বেসরকারি খাতের বার্ষিক ঋণপ্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি না থাকা এবং বিনিয়োগের পরিস্থিতির কারণে এই ঋণ কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণপ্রবৃদ্ধি কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণপ্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় খাতের ঋণের এই গতি শ্লথ হয়ে পড়ার চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে।
অভ্যন্তরীণ খাতের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের স্থিতিও ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। গত জুন শেষে দেশের স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের স্থিতি সামান্য কমে এক হাজার ২৫ কোটি ডলারে নেমেছে। এর আগে গত এপ্রিলে এই ঋণের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৩৩ কোটি ডলারে এবং চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে তা ছিল এক হাজার ৪৭ কোটি ডলার।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক বছরে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের পরিমাণে বড় ধরনের ওঠানামা হয়েছে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ প্রায় ৬৫ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৫৪৬ কোটি ডলারে ওঠে। পরবর্তীতে ২০২৩ সাল শেষে এই ঋণ কমে এক হাজার ১৭৯ কোটি ডলারে নেমে যায় এবং ২০২৪ সাল শেষে তা আরও কমে এক হাজার ১৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।
এদিকে সামগ্রিক বিদেশি ঋণস্থিতির চিত্রেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গত মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট বিদেশি ঋণস্থিতি কমে ১১ হাজার ৯৩ কোটি ডলারে নেমেছে। তিন মাস আগে অর্থাৎ গত ডিসেম্বর শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৩৫ কোটি ডলার। গত মার্চ পর্যন্ত এই মোট বিদেশি ঋণের মধ্যে শুধুমাত্র সরকারি খাতের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৯১ কোটি ডলার, যা এর আগে গত ডিসেম্বরে ছিল ৯ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ গত ডিসেম্বরের ২ হাজার ৬ কোটি ডলার থেকে কমে পরবর্তীতে ২ হাজার ২ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
ঋণ হ্রাসের এই প্রবণতার পেছনে কারণ ব্যাখ্যা করে বিশিষ্ট ব্যাংকার ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন বলেন, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির বিপরীতে কাঁচামাল ও মূলধনি পণ্য আমদানির জন্য ব্যবসায়ীরা এ ধরনের সাপ্লায়ার্স ও বায়ার্স ক্রেডিট নিয়ে থাকেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে খুব গতি না থাকায় হয়তো এ ধরনের ঋণ কমছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে আবার দেখা যাবে মূলধন যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বেড়ে সামগ্রিকভাবে ঋণের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং বিনিয়োগ বাড়াতে অবশ্য নীতিগত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত মে মাসে স্বল্পমেয়াদি ঋণের সর্বোচ্চ সুদহারের সীমা কমানো হয়। এ বিষয়ে মোহাম্মদ নূরুল আমিন আরও বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। বন্ধ কারখানা সচলসহ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে কম সুদে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারিশিল্পের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং পেট্রোবাংলার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাসমূহ কাজ করে যাচ্ছে। অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এসব প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ এবং নীতিসহায়তার কার্যকারিতা এখন দেখার বিষয়।








