বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মবণ্টন বৈষম্য
বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, ব্যাংকিং ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মবণ্টন ও কাজের চাপের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেখানে কিছু কর্মী অতিরিক্ত চাপে থাকেন, সেখানে অনেকেই অলস সময় কাটান।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত, ব্যাংকিং, করপোরেট এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মবণ্টন, কাজের চাপ এবং পারফরম্যান্সভিত্তিক মূল্যায়ণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। দেশের এসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমান কর্মপরিবেশ পর্যালোচনায় এক অদ্ভুত বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে কাজের সুষম বণ্টনের অভাব রয়েছে। কিছু কর্মীকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কাজের চাপে জর্জরিত রাখা হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনের ক্ষমতাকে দারুণভাবে ব্যাহত করছে। এর বিপরীতে, একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অন্য একদল কর্মীর কাজের পরিমাণ অত্যন্ত কম বা অপ্রতুল রয়ে গেছে।
এই বৈষম্যমূলক কর্মবণ্টনের আরেকটি বড় দিক হলো বেতন কাঠামোর সঙ্গে কাজের পরিমাণের অসঙ্গতি। নিয়মানুযায়ী কর্মীদের কাজের পরিমাণের সঙ্গে বেতন স্কেলের সরাসরি কোনো মিল পাওয়া যায় না। এর ফলে, যেসব কর্মী তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি পরিশ্রম করেন এবং যারা কম কাজ করেন বা অলস সময় কাটান, তারা প্রায়শই একই ধরনের বেতন স্কেল পেয়ে থাকেন।
কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের ভারসাম্যহীনতা কর্মীদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অতিরিক্ত কাজের চাপে জর্জরিত থাকার কারণে কর্মীদের কাজের দক্ষতা, মনোযোগ এবং যেকোনো বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। অতিরিক্ত কাজের বোঝা তাদের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের যেসব সক্ষম ও দক্ষ কর্মী পর্যাপ্ত কাজের অভাবে অলস সময় কাটান, তাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন এক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের সুপ্ত প্রতিভা এবং কর্মক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহার না হওয়ায় দিনশেষে এটি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসিত, ব্যাংকিং, করপোরেট এবং বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মবণ্টন ও পারফরম্যান্সভিত্তিক মূল্যায়ণের এই ত্রুটিপূর্ণ চিত্র প্রাতিষ্ঠানিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কাজের সুষম বণ্টন এবং কাজের পরিমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








