বৃষ্টির দিনে রকেট বানিয়ে বেলুনে চড়ে বসল শিশু আয়ান
মেলা থেকে লাল বেলুন কেনাকে কেন্দ্র করে বোন রাইসার সঙ্গে ঝগড়া এবং বৃষ্টিতে খেলাধুলা বন্ধ হওয়ায় আয়ান এক অভিনব কাণ্ড ঘটিয়ে বসে। পরে মেঘ-বুড়ির শেখানো মন্ত্র প্রয়োগ করে সে নিরাপদে মাটিতে নেমে আসে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে শিশুদের মনস্তত্ত্ব ও কল্পনার জগত প্রায় সময়ই এক রোমাঞ্চকর মোড় নেয়। এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হলো ছোট্ট শিশু আয়ান এবং তার পরিবার। সেদিন আয়ান মেলা থেকে একটি লাল বেলুন কিনে এনেছিল। এই লাল বেলুনটিকে কেন্দ্র করেই মূলত তাদের বাড়িতে এক ছোট্ট ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে বেশ কৌতূহলোদ্দীপক হয়ে ওঠে।
শিশুদের মাঝে ভাইবোনের ঝগড়া একটি পরিচিত দৃশ্য। আয়ানের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। তার ছোট বোন রাইসা হঠাৎ করেই আয়ানের একটি লাল পেন্সিল ভেঙে ফেলে। পেন্সিল ভেঙে ফেলায় রাইসার ওপর বেজায় চটে যায় আয়ান। সে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, 'আমার পেন্সিল ভাঙলি কেন? তুই ছবিটা পচা করে দিলি!' বোনের প্রতি এই ক্ষোভ ও রাগ তার মনে দীর্ঘক্ষণ ধরে কাজ করছিল।
এরই মধ্যে বাইরের আবহাওয়াও বদলে গিয়েছিল। বৃষ্টির কারণে আয়ানের বিকেলে ক্রিকেট খেলতে যাওয়া হয়নি। বাইরে বৃষ্টি নামায় সে মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে পড়ে। ঘরের ভেতর বন্দি থাকার কারণে তার মন আরও খারাপ হয়ে যায়। খেলাধুলা বন্ধ থাকায় সে জেদ ধরে বলে, 'যাবো! আমি এখনই যাবো। বৃষ্টিতেই খেলবো!' কিন্তু চারপাশের পরিস্থিতি তার অনুকূলে ছিল না।
রাগ আর জেদের বশে আয়ান এরপর অন্য এক সিদ্ধান্ত নেয়। সে ঘোষণা দেয় যে সে আর ঘর গোছাবে না এবং কোনো রকেটই বানাবে না। সে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, 'না, গোছাবো না। আমি রকেটই বানাবো না।' কিন্তু শিশুদের মন পরিবর্তনশীল; রাগ কমাতে সে এক অভিনব উপায় নেয় এবং বেলুনের সাহায্যে আকাশে ওড়ার মতো এক অদ্ভুত কল্পনায় হারিয়ে যায়।
তবে আকাশে বা উঁচুতে গিয়ে আয়ান হঠাৎ বিপদে পড়ে যায়। সে দেখতে পায় যে সে আর নিজের মতো করে নিচে নামতে পারছে না। ভয়ের চোটে সে তখন চিৎকার করে বলে ওঠে, 'আমি তো নামতে পারছি না। আমাকে বাঁচাও। আমার খুব ভয় করছে।' চারপাশের এই পরিস্থিতিতে তার চরম আতঙ্ক কাজ করছিল।
ঠিক সেই মুহূর্তে মেঘ-বুড়ি নামের এক চরিত্র সেখানে উপস্থিত হয়। আয়ানকে রাগের বশে বেলুনের সাহায্যে অমন উচ্চতায় উড়তে দেখে মেঘ-বুড়ি স্নেহের সুরে তাকে জিজ্ঞেস করে, 'কী গো দাদুভাই, রাগের বেলুনে চড়ে কোথায় চললে?' আয়ানের বিপদের মুহূর্তে মেঘ-বুড়ি তাকে শান্ত করার চেষ্টা করে এবং পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের পথ বাতলে দেয়।
মেঘ-বুড়ির কথা শুনে আয়ান কৌতূহলী হয়ে ওঠে এবং দ্রুত জানতে চায় কী সেই উপায়। সে ব্যাকুল হয়ে বলে ওঠে, 'কী মন্ত্র? এক্ষুনি বলো।' পরবর্তীতে মেঘ-বুড়ির শেখানো সেই বিশেষ মন্ত্র প্রয়োগ করে আয়ান বেলুনের হাওয়া কমিয়ে অবশেষে নিরাপদে মাটিতে নেমে আসে এবং বড় ধরনের এক বিপদ থেকে রক্ষা পায়।








