বিড়ালের দুধ খাওয়ার অভ্যাস ও ল্যাকটোজ হজমের বৈজ্ঞানিক কারণ
বিড়াল মাংসাশী প্রাণী হলেও তাদের দুধ খাওয়ার একটি প্রচলিত অভ্যাস রয়েছে। তবে বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক বিড়ালের দুধে থাকা ল্যাকটোজ হজম করার ক্ষমতা কমে যায়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বিড়াল একটি মাংসাশী প্রাণী হিসেবে পরিচিত এবং এদের শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির একটি বড় অংশ আসে মূলত প্রাণিজ প্রোটিন থেকে। প্রকৃতিগতভাবেই এদের খাদ্যতালিকা এবং শারীরবৃত্তীয় গঠন অন্যান্য আমিশোভোজী প্রাণীর চেয়ে কিছুটা আলাদা হয়ে থাকে।
গৃহপালিত বা সাধারণ বিড়ালের ক্ষেত্রে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার একটি চিরন্তন অভ্যাস দেখা যায়। ছোটবেলা থেকেই মানুষ বিড়ালকে দুধ দেওয়ার যে প্রথা মেনে আসছে, তার পেছনে রয়েছে এই সাধারণ দৃশ্যটি।
তবে এই পরিচিত অভ্যাসের পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ ও জৈবনিক প্রক্রিয়া। সব বয়সের বিড়ালের শরীর একইভাবে সব খাবার বা পানীয় হজম করতে পারে না, যার মধ্যে দুধ অন্যতম একটি উদাহরণ।
ছোট বিড়ালছানা অত্যন্ত সহজে এবং কোনো জটিলতা ছাড়াই মায়ের দুধ হজম করতে সক্ষম হয়। এর মূল কারণ হলো, এই বয়সে তাদের শারীরিক গঠন এবং পরিপাকতন্ত্র ভিন্নভাবে কাজ করে।
ছানাদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বয়সে শরীরে ল্যাকটোজ ভাঙার এনজাইম অত্যন্ত বেশি সক্রিয় থাকে। এই অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারণে তারা মায়ের দুধে থাকা শর্করা বা ল্যাকটোজ সহজে হজম করতে পারে।
কিন্তু বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। অনেক প্রাপ্তবয়স্ক বিড়ালের ক্ষেত্রে দুধে থাকা ল্যাকটোজ হজম করার প্রাকৃতিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
তাই ছোটবেলায় দুধ হজম করতে পারলেও বড় হওয়ার পর বিড়ালদের জন্য দুধ হজম করা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই বৈজ্ঞানিক সত্যটি বিড়াল লালন-পালনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।








