বিমা খাতের অনিয়ম ও অপরিশোধিত দাবি নিয়ে আইডিআরএ-র বৈঠক
রাজধানীতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে দেশের ৫৭ শতাংশ বিমা দাবি অপরিশোধিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কোম্পানিগুলোকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:৩১· ১ মিনিট পড়া

সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী। সভায় দেশের সামগ্রিক বিমা খাতের বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকদের বকেয়া দাবি পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে আসা নানা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে বিমা খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। তথ্যে জানানো হয়েছে যে, দেশের ৫৭ শতাংশ বিমা দাবি এখনও অপরিশোধিত রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে গ্রাহকরা তাদের পাওনা টাকা না পেয়ে বিমা কোম্পানির দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, যা এই খাতের ওপর মানুষের আস্থার বড় সংকট তৈরি করছে। এই বিপুল পরিমাণ দাবি অপরিশোধিত থাকার বিষয়টি বৈঠকে তীব্রভাবে আলোচিত হয় এবং এর প্রতিকারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।
গ্রাহকদের এই অর্থ দ্রুত পরিশোধের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, দাবি পরিশোধ করতে তাদের সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে যদি কোম্পানিগুলো বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের সম্পত্তি বিক্রি করে সাধারণ জনগণের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট করে জানান।
বিমা খাতের দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন যে, দেশের সব বিমা কোম্পানিকে অবশ্যই অটোমেশনে যেতে হবে। ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার কারণে যেসব দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়, অটোমেশনের মাধ্যমে তা রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পুরো খাতটিকে একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার এই নির্দেশনা অবিলম্বে বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশ অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন যে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ-র কোনো নির্দেশনা যদি কোনো কোম্পানি অমান্য করে, তবে সেই সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিমা খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের নিরাপত্তা বিধানে সরকার কোনো ছাড় দেবে না বলে বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।
উক্ত বৈঠকে বিমা খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের নীতিনির্ধারক ও আইডিআরএ কর্মকর্তাদের মধ্যে নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের অর্থনীতিতে বিমা খাতের অবদান বাড়াতে এবং গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় এই বৈঠকে যেসব নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।








