এআই অর্থনীতির প্রস্তুতি ও অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ নিয়ে আলোচনা
বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক অর্থনীতির প্রস্তুতি এবং অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর বিভিন্ন তথ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে দেশের উৎপাদন খাতের প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কর্মসংস্থানের চিত্র উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক অর্থনীতির প্রস্তুতি এবং অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উৎপাদন খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মসংস্থানের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ অনুযায়ী, দেশের মাত্র ২.৪% অর্থাৎ ২.৪৪ শতাংশ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে কম্পিউটার বা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। তথ্যপ্রযুক্তির এই কম ব্যবহারের বিষয়টি দেশের ভবিষ্যৎ এআই অর্থনীতির প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আলোচনায় দেশের শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থানের একটি উদ্বেগজনক চিত্রও উঠে আসে। ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পদার্পণ করলেও, এই সময়ে অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ। অর্থাৎ কাজের সুযোগ ও কর্মক্ষম যুবসমাজের মধ্যে একটি বড় ফারাক থেকে গেছে।
নতুন কর্মসংস্থান পাওয়াদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষই নিম্ন-উৎপাদনশীল কৃষিখাতে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছেন। এর ফলে দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের সবচেয়ে উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেশি উৎপাদনশীল। এই প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের মাত্র ১৫ শতাংশের জোগান দিয়ে থাকে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়াতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তথ্যও আলোচনায় স্থান পায়। স্ট্যানফোর্ড এআই ইনডেক্স অনুযায়ী, জিপিটি-৩.৫ স্তরে পারফর্ম করা একটি মডেল ব্যবহারের খরচ নভেম্বর ২০২২ সালের প্রতি ১০ লক্ষ টোকেনে প্রায় ২০ ডলার থেকে কমে অক্টোবর ২০২৪-এর মধ্যে মাত্র ০.০৭ ডলারে নেমে এসেছে।
এআই অর্থনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে নীতিগত পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং এবং বিগ ডাটার জন্য বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপনের একটি রূপকল্প বা ভিশন তুলে ধরা হয়েছে।








