বাগেরহাট মাজার এলাকায় জনপ্রিয় দুধ চা ও বাহারি পান
বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন এলাকায় দুধ চা ও বাহারি পানের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দুই যুগের বেশি সময় ধরে চলা এই ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন এলাকায় দুধ চা ও বাহারি পানের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৬ আগস্ট ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, মাজার এলাকার দোকানগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে চা ও পান বিক্রি হচ্ছে, যা স্থানীয় ও দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে।
মাজার সংলগ্ন এলাকাটিতে বর্তমানে প্রায় ৩০টি চায়ের দোকান রয়েছে। এই দোকানগুলোতে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চা বিক্রি হয়। চা বিক্রেতা মোহাম্মদ তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি এখানে প্রতিদিন প্রায় ৬শ কাপ দুধ চা এবং ২শ থেকে ৩শ কাপ রং চা বিক্রি করেন। তার ভাষ্যমতে, এখানে রং চায়ের তুলনায় দুধ চায়ের চাহিদাই বেশি থাকে।
চায়ের পাশাপাশি এই এলাকার বাহারি পানেরও ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। চা বিক্রেতা মোহাম্মদ তুহিন জানান, তিনি প্রতিদিন ৫শ থেকে ৬শ পান বিক্রি করেন। মাজারের এই পান ও দুধ চা প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে খুব জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।
মাজারে আসা দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের আড্ডার একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হলো এই চায়ের দোকানগুলো। দর্শনার্থী আমিনুল ইসলাম জানান, দুই ঈদ ও পূজার ছুটিতে বাগেরহাট আসলে তারা বন্ধুরা মিলে এখানে চায়ের আড্ডা দেন এবং এই আড্ডা ছাড়া তাদের ছুটি জমে না। তিনি আরও বলেন, এখানকার দুধ চা তার খুব প্রিয় এবং দোকানদাররা পরম যত্নে এটি তৈরি করে দেন।
আরেক দর্শনার্থী তাফসিদ ইসলাম জানান, তিনি প্রায়ই এখানে দুধ চা খেতে আসেন এবং মাজারের এই চায়ের স্বাদ অতুলনীয়। তিনি বাইরের জেলার কোনো অতিথি আসলে তাদের আপ্যায়ন করতে এখানে নিয়ে আসেন এবং ঐতিহ্যবাহী চা-পান করান।
শুধু চা নয়, পানের টানেও মানুষ ছুটে আসেন এই মাজারে। দর্শনার্থী হোসেন শেখ বলেন, মাজারে আসলে এখানকার পান তার খেতেই হবে কারণ এর স্বাদ অন্যান্য জায়গার থেকে আলাদা। দোকানদাররা রংবেরঙের বিভিন্ন মসলা দিয়ে খুব সুন্দর করে পান বানান এবং অনেক সময় শুধুমাত্র পান খেতেই তিনি গ্রাম থেকে মাজারে আসেন।
দোকানদার আসাদ শেখ জানান, তাদের এখানে প্রচুর দুধ চা আর স্পেশাল পান বিক্রি হয়। স্থানীয় লোকজনের চেয়ে বাইরের কাস্টমার বেশি আসে এবং শুধু চা-পান খেতে ও আড্ডা দিতে অনেক দূর থেকে মানুষ আসে। এটি তাদের মতো দোকানদারদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় এবং তারা সাধ্যমতো সেরা দুধ চা ও হরেক রকম মসলা দিয়ে পান বানিয়ে খাওয়ান।
এ বিষয়ে ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার এবং ষাট গম্বুজ মসজিদ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হওয়ায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা আসেন। এই পর্যটনকে কেন্দ্র করে মাজারে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনোদনের জায়গা গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে এখানের পান ও দুধ চা প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে খুব জনপ্রিয়। মানুষ পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দেয়, দুধ চা ও পান খায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তারা দর্শনার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করেন, যার ফলে স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকরা ভালো নিরাপত্তা ও মনোরম পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে আড্ডা দিতে পারেন।








