বাউফলে তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম সংকট মৃৎশিল্পে
পটুয়াখালীর বাউফল ও মদনপুরার পালপাড়ায় তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে মাটির পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকটের জেরে বাধ্য হয়ে জেনারেটর ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের বেতন কমানো ও ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পটুয়াখালীর বাউফল ও মদনপুরার পালপাড়ায় মাটির পণ্য তৈরির অর্ধশত কারখানা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প খাত এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। কারখানায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এখানকার কারিগর ও শ্রমিকদের ওপর।
বাউফল ও মদনপুরার পালপাড়ার এই কারখানাগুলোতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন এলাকার অসংখ্য মানুষ। বিমল চন্দ্র পাল, কমল পাল, বরুণ পাল, গৌতম পাল ও সমির পালের মতো কারিগর ও উদ্যোক্তারা এই শিল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই পালপাড়ায় দেড় থেকে দুই হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং মালিকরা তাদের নিয়মিত কাজের জন্য মজুরি দিয়ে থাকেন। এছাড়া এখানকার কারখানাগুলোর মধ্যে কমল মৃৎশিল্পী অ্যান্ড কোম্পানি এবং আড়ংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানেও মৃৎশিল্পের নানা পণ্য তৈরি ও সরবরাহ করা হয়।
এলাকার কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চরম দুর্পভোগ পোহাচ্ছেন। কারখানাগুলোর একটির মালিক ও শ্রমিকদের অবস্থা তুলে ধরে শিশির পাল জানান, তাদের এ পালপাড়ায় দেড় থেকে দুই হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং তারা তাদের কাজের জন্য মজুরি দেন। কিন্তু বর্তমানে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এই সময়ে তাদের জেনারেটর চালু করে উৎপাদন চালু রাখতে হয়, ফলে উৎপাদন কম হয় এবং খরচ বেড়ে যায়। এর জেরে লাভ থাকে না বললে চলে।
উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং লাভ কমে যাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে কারখানার মালিক কমল পাল বলেন, দিনে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এক ঘণ্টা পর পর দেখা মেলে। তেল কিনে আর পারছি না। জেনারেটর চালু করে বাধ্য হয়ে ফরমায়েশি পণ্য তৈরি করে সরবরাহ করতে হয়। ফলে তেলের খরচও বেশি যায়, উৎপাদনও কম হয়। এই পরিস্থিতিতে কারখানায় কর্মী ২০ জন রয়েছেন এবং বিমল চন্দ্র পালের বেতন ৪৫ হাজার টাকা হলেও সার্বिक সংকটের কারণে মালিকরা শ্রমিকদের বেতন কমাতে বাধ্য হচ্ছেন বা শ্রমিক ছাঁটাই করছেন।
বিদ্যুৎ সংকটের এই চিত্র সম্পর্কে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বাউফল জোনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে মো. আজিজুল ইসলাম জানান, বাউফলে প্রতিদিন ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে তারা পান মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের এক ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়ার পর আবার এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিতে হয় গ্রাহকদের।
পটুয়াখালীর বাউফল ও মদনপুরার পালপাড়ার মাটির পণ্য তৈরির কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না বলে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্প এবং এর সঙ্গে জড়িত হাজারো শ্রমিকের জীবিকা এখন হুমকির মুখে পড়েছে।








