বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য চীনা জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য চীনের তৈরি জে-১০সি যুদ্ধবিমান ক্রয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কমিটি ইতোমধ্যে খসড়া চুক্তিপত্র তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে চীনের তৈরি জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া বর্তমানে বেশ ভালোভাবে এগিয়ে চলেছে। দেশের প্রতিরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। সচিবালয়, ঢাকা থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এমআরসিএ (জে-১০ সিই) এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংক্রান্ত গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নেগোসিয়েশন বৈঠক সম্পন্ন করেছে। ওই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার ভিত্তিতে একটি খসড়া চুক্তিপত্র তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তৈরি করা এই খসড়া চুক্তিপত্রটি পরবর্তীতে অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এই বিমানগুলো সংগ্রহের কাজ আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক একটি রিয়েল এক্সপেরিয়েন্স রয়েছে কমব্যাট সিচুয়েশনে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ভারতের রাফাল ডাউন হয়েছিল, যা করেছিল চায়নিজ জে-১০। এই তথ্য এখন প্রতিষ্ঠিত। তিনি আরও বলেন, সুতরাং চায়নার তৈরি একটি মাল্টিরোল ফাইটার, এখন রাফালকে বলা হয় ৪.৫ জেনারেশনের সবচেয়ে আধুনিক ফাইটারগুলোর একটা। তার সঙ্গে কমব্যাট সিচুয়েশনে খুবই ভালো করেছে। সো, বাংলাদেশ সেদিকে মনোযোগ দিয়েছে এবং আশা করা যায় আমরা এই পথে খুব ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।
চীনের এই যুদ্ধবিমানের নানাবিধ সুবিধার কথা উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, একটি কথা বলে রাখা ভালো, সিমিলার কোয়ালিটির রাফাল বলি বা ইউরো ফাইটার টাইফুন বলি, ইউরোপিয়ান ভেরিয়েন্টের—তার তুলনায় চায়নিজ ফাইটারগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, আমাদের সরকার জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সব রকমের পদক্ষেপ নেবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং পিআইডি সূত্রে প্রাপ্ত এই কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন আন্দালিভ রহমান পার্থ, ইয়াসের খান চৌধুরী, মাহবুবা ফারজানা এবং সৈয়দ আবদাল আহমদ। তাদের উপস্থিতিতে এই প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের এই পদক্ষেপে চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমান সংযোজনের বিষয়টি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ খসড়া চুক্তিপত্র নিয়ে কাজ করছে এবং খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আরও অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।








