ফোক্সওয়াগনের কারখানা বিক্রি, ব্যবহৃত হবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রকল্পে
জার্মানির ফোক্সওয়াগন তাদের একটি কারখানা তেল আবিবভিত্তিক অরেলিয়াস ক্যাপিটাল এবং লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যের কাছে বিক্রি করছে। এই কেন্দ্রে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সংস্থার আকাশ প্রতিরক্ষা প্রকল্প পরিচালিত হবে। এর ফলে কারখানাটির ১ হাজার ৮০০ কর্মীর মধ্যে অন্তত ১ হাজার ২০০ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জার্মানির শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোক্সওয়াগন তাদের একটি কারখানা তেল আবিবভিত্তিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অরেলিয়াস ক্যাপিটাল এবং জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যের কাছে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস-এর একটি আকাশ প্রতিরক্ষা প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত হবে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে।
কারখানাটি বিক্রির এই চুক্তির বিষয়ে ফোক্সওয়াগনের প্রধান নির্বাহী অলিভার ব্লুম মন্তব্য করেছেন যে, এই চুক্তির মাধ্যমে কারখানাটির জন্য একটি নতুন শিল্প সম্ভাবনা উন্মোচিত হলো। তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে কারখানাটির স্থবির হয়ে পড়া উৎপাদন কার্যক্রমের পরিবর্তে একটি নতুন বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের ইঙ্গিত মিলেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে এই দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস-এর প্রধান ইয়াভ তুরগেমান জানিয়েছেন, প্রযুক্তিটির পুরোটাই জার্মানিতে উৎপাদনের লক্ষ্যে তারা এই দীর্ঘমেয়াদি শিল্প সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। তার এই বক্তব্যে প্রতিরক্ষাসামগ্রী উৎপাদনের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই মালিকানা পরিবর্তনের ফলে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কর্মসংস্থানে। কারখানাটিতে বর্তমানে মোট ১ হাজার ৮০০ কর্মী কর্মরত রয়েছেন। নতুন এই চুক্তির ফলে এই ১ হাজার ৮০০ কর্মীর মধ্যে অন্তত ১ হাজার ২০০ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে বলে জানানো হয়েছে। যা বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে একটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে ফোক্সওয়াগনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নানা ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে এই কারখানায় সব ধরনের গাড়ি উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল। গাড়ি উৎপাদন বন্ধের সেই সিদ্ধান্তের ফলেই কারখানাটি অন্য খাতে ব্যবহারের জন্য বিক্রি করার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সার্বিক ব্যবসায়িক পুনرفর্গঠনের অংশ হিসেবে ফোক্সওয়াগন আরও বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা বিশ্বজুড়ে মোট ১ লাখ চাকরি কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিশাল কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট বন্ধ বা রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কাঠামোতেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ কাতার ফোক্সওয়াগনের ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিক। এই মালিকানা ও বৈশ্বিক বিনিয়োগের পটভূমিতেই কারখানার মালিকানা বদল ও প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ব্যবহারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হলো।








