পিরোজপুরে ছেলের কাঠের ডান্ডার আঘাতে মায়ের মৃত্যু
পিরোজপুরের কাউখালীতে চাল রান্না নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ছেলের কাঠের ডান্ডার আঘাতে কানন বালা নামের এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মামলা করলে পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে আদালতে পাঠায়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের শিয়ালকাঠী গ্রামে মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে ছেলের কাঠের ডান্ডার আঘাতে মায়ের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট রোববার রাত ১২টার দিকে কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী গ্রামে নিজ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাড়িতে চাল রান্না নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় ছেলে সুজন বালার। এই বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সুজন বালা তাঁর মা কানন বালাকে কাঠের ডাসা দিয়ে সজোরে আঘাত করেন।
মায়ের ওপর ছেলের এই অতর্কিত ও সহিংস আঘাতের ফলে কানন বালা গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চালান। তবে রাতের ওই পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে সোমবার ভোর ৬টার দিকে আহত কানন বালাকে প্রথমে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কানন বালা মারা যান। চিকিৎসকরা তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং আঘাতের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবারে শোকের মাতম শুরু হয়। পরবর্তীতে নিহতের ভাই প্রদীপ মিস্ত্রি বুলু বাদী হয়ে কাউখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
অভিযোগ পাওয়ার পর কাউখালী থানা পুলিশ অভিযুক্ত সুজন বালাকে আটক করে। পুলিশি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আটক সুজন বালাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট থানার মো. এবাদ আলী মোল্লাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।








