পাকিস্তান ক্রিকেটে ৫ বছরে ১১ কোচ বদল, নেতৃত্বে চরম অস্থিরতা
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় ও কোচিং স্টাফে চলছে চরম অস্থিরতা। গত পাঁচ বছরে দলটিতে ১১ জন কোচ বদল হয়েছেন। ঘনঘন এই পরিবর্তনের কারণে দলটির পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া
লাহোর, পাকিস্তান — পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ব্যবস্থাপনা এবং কোচিং স্টাফে ঘনঘন পরিবর্তন ও চরম অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের এই সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা পিসিবির কার্যক্রমে এই অস্থিতিশীলতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন এবং নানা সিদ্ধান্তের কারণে বারবার কোচ ও নীতিনির্ধারক বদলানোর ঘটনা ঘটছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে পাকিস্তান ক্রিকেটে ১১ জন কোচ বদল হয়েছেন। এই দীর্ঘ তালিকায় সারফরাজ আহমেদ, উমর গুল, মিসবাহ-উল-হক, ওয়াকার, সাকলায়েন মুশতাক, আবদুল রাজ্জাক, আবদুল রেহমান, মিকি আর্থার, গ্র্যান্ট ব্র্যাডবার্ন, মোহাম্মদ হাফিজ, আজহার মেহমুদ, জেসন গিলেস্পি, গ্যারি কারস্টেন, আকিব জাভেদ এবং মাইক হেসনের মতো নামগুলো রয়েছে। এছাড়া গ্ল্যামারগনের মতো কাউন্টি দলের প্রসঙ্গও এর সঙ্গে জড়িত।
কোচিং প্যানেলে এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মিসবাহ-উল-হক প্রধান কোচের দায়িত্ব ছাড়েন। এরপর ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে পাকিস্তান দল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেতে ব্যর্থ হয় এবং সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়। এই ব্যর্থতার পর দলের দায়িত্বে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়।
বিশ্বকাপের পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে মোহাম্মদ হাফিজকে টিম ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে পিসিবির নতুন চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। মোহাম্মদ হাফিজকে মাত্র দুই মাসের মাথায় তার পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়।
নিজের সংক্ষিপ্ত মেয়াদের অভিজ্ঞতা নিয়ে মোহাম্মদ হাফিজ মন্তব্য করেন, পিসিবির দেওয়া চার বছরের নির্ধারিত মেয়াদের ইতি টানা হলো মাত্র দুই মাসের মাথায় বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যানশিপ আসার কারণে। তার এই মন্তব্যে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মাঠের পারফরম্যান্সেও এই কোচিং জটিলতার নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত তিন টেস্টের সিরিজে পাকিস্তান দল ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। ঘনঘন কোচ ও ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন করায় পাকিস্তান ক্রিকেট দল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছে না, যা দলটির ভবিষ্যৎ সাফল্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
আপনার প্রতিক্রিয়া