পরিচয় জটিলতায় ভুল কারাবাস: মুক্ত হলেন সোনা মিয়া
পরিচয়সংক্রান্ত জটিলতায় ভুলবশত কারাভোগের শিকার সোনা মিয়াকে কক্সবাজার জেলা কারাগار থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আদালতের চার শর্তে তাকে এই মুক্তি দেওয়া হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

পরিচয়সংক্রান্ত জটিলতায় ভুলবশত কারাভোগ করা সোনা মিয়াকে ২০২৬ সালের ২৬ জুন কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভুল ঠিকানায় কারাবাস করা এই ব্যক্তির কারামুক্তির মধ্য দিয়ে একটি জটিল আইনি ও প্রশাসনিক ভুলের অবসান হলো।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রমজান আলী নামের এক ব্যক্তি সোনা মিয়ার পরিচয় ব্যবহার করে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা সংক্রান্ত মাদক মামলায় জামিন নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এই পরিচয়ের মারপ্যাঁচেই আসল সোনা মিয়া আইনি জটিলতার শিকার হন এবং তাকে ভুলবশত কারাগারে পাঠানো হয়।
কক্সবাজার জেলা কারাগারে আসার পর পুরো ঘটনাটি প্রকাশ পায়। এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, 'সবার সহযোগিতায় একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে নিশ্চিত মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচাতে পারলাম আমরা। সোনা মিয়া যখন কারাগারে এলেন, তখন রোলকলে তিনি জানতে চান কী অপরাধে তাকে কারাগারে আনা হয়েছে? তখন তাকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হলে তিনি বিস্মিত হন। পরে পুরোনো নথিতে থাকা ছবি, পরিচয় ও অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে তার তথ্য মিলিয়ে গরমিল পাওয়া যায়। বিষয়টি আদালতকে জানানো হলে শুরু হয় তদন্ত।'
এই ঘটনার তদন্তে সহযোগিতা করেন মো. দেলোয়ার জাহান, মো. আব্দুর রহিম, মো. বেদারুল আলম এবং মিজানুর রহমান। তাদের তৎপরতায় নথিপত্র ও তথ্যের গরমিল আদালতের নজরে আসে এবং সত্যতা উদঘাটিত হয়।
কারাগারে কাটানো সময় সম্পর্কে সোনা মিয়া বলেন, 'কারাগারের প্রতিটি মুহূর্ত তার কাছে দিনের মতো এবং প্রতিটি দিন বছরের মতো দীর্ঘ মনে হয়েছে।' নিরপরাধ হয়েও দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটানোর এই মানসিক যন্ত্রণা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল।
অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া শেষে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুর রহিম চারটি শর্তে সোনা মিয়াকে কারামুক্তির আদেশ দেন। এই আদেশের পরই ২৬ জুন তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এই পুরো প্রক্রিয়ায় কক্সবাজার জেলা কারাগার, কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত, কক্সবাজার সদর থানা, র্যাব-১৫ এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। পরিচয়সংক্রান্ত এই জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে অবশেষে একজন নিরপরাধ মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলো।








